৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ও নারী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ও নারী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ

আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উচ্চপদস্থ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দিতে হস্তক্ষেপ করেছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি পাননি এমন একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হেগসেথ নিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে চারজন আর্মি কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দেন। এদের মধ্যে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এবং দুইজন নারী কর্মকর্তা ছিলেন, যারা এক-স্টার জেনারেল হওয়ার পথে ছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম এ খবর প্রকাশ করে।
আরেকজন কর্মকর্তা জানান, হেগসেথ আদর্শগতভাবে 'অসামঞ্জস্যপূর্ণ' মনে করা সিনিয়র কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন। এছাড়া আরও একজন কৃষ্ণাঙ্গ কর্নেল ও অন্য একটি শাখার এক নারী কর্নেলকেও পদোন্নতির তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে মোট অন্তত ছয়টি পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগ পাওয়ার আগে হেগসেথ তার বইগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে 'ওয়োক' সংস্কৃতির প্রভাবে দুর্বল হয়েছে বলে সমালোচনা করেন এবং বাহিনীতে বৈচিত্র্য বৃদ্ধিকে নেতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পেন্টাগনে ব্যাপক পুনর্গঠন শুরু করেন, যার মধ্যে চার-স্টার অ্যাডমিরাল ও জেনারেলদের বড় ধরনের অপসারণ অন্তর্ভুক্ত। তিনি জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল সিকিউ ব্রাউনকে (দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে এ পদে অধিষ্ঠিত) বরখাস্ত করেন এবং তার বইতে প্রশ্ন তোলেন—তিনি কি যোগ্যতার ভিত্তিতে নাকি বর্ণের কারণে এ পদ পেয়েছিলেন। একইভাবে, নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেটিকেও বরখাস্ত করা হয়—যিনি ছিলেন এ পদে প্রথম নারী। উভয় ক্ষেত্রেই কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই প্রতিবেদনকে 'ভুয়া খবর' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'হেগসেথের অধীনে সামরিক পদোন্নতি কেবল তাদেরই দেওয়া হয় যারা তা অর্জন করেছে। মেধাভিত্তিক এই ব্যবস্থা নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক।'
এদিকে সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যাক রিড জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
তিনি বলেন, 'যদি এই প্রতিবেদন সত্য হয়, তাহলে মেধা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নির্বাচিত চারজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া শুধু নিন্দনীয় নয়, এটি বেআইনিও হতে পারে। বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে পদোন্নতি অস্বীকার করা সামরিক বাহিনীর মেধাভিত্তিক নীতির পরিপন্থী।'

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি