৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ইরান হামলা নিয়ে বিশ্বনেতারা কী বলছেন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ইরান হামলা নিয়ে বিশ্বনেতারা কী বলছেন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

ছাবেদ সাথী: কয়েক সপ্তাহের বাড়তি উত্তেজনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক সমাবেশের পর শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় বিশ্বনেতারা সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিচে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরা হলো—
জাতিসংঘ: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের 'বলপ্রয়োগ' এবং পরবর্তী ইরানি পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এসব পদক্ষেপ 'আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।'
তিনি জাতিসংঘ সনদসহ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের দাবি তোলেন।
এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে, যার সভাপতিত্ব করছে যুক্তরাজ্য।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইরানের পরিস্থিতিকে 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক' বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অস্ত্র বিস্তাররোধ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ ঠেকানো অত্যন্ত জরুরি। সব পক্ষকে সংযম ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস পরিস্থিতিকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা অগ্রাধিকার। তবে তিনি ইরানি শাসনব্যবস্থাকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসে সমর্থনের অভিযোগও করেন।
ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য: এই তিন দেশের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বন্ধ এবং নিজ জনগণের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
তারা স্পষ্ট করেন, হামলায় তাদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
বিবৃতিতে ইরানের পাল্টা হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হলেও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলার সরাসরি সমর্থন বা নিন্দা করা হয়নি।
স্পেন: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলাকে অনিশ্চিত করছে। তিনি অবিলম্বে উত্তেজনা হ্রাস ও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।
কানাডা: প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন করে, যার লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
তিনি বলেন, 'ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসের প্রধান উৎস' এবং তাদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।
রাশিয়া: রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাকে 'পূর্বপরিকল্পিত ও উসকানিহীন আগ্রাসন' বলে আখ্যা দেয় এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার দাবি জানায়।
তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুমকিকে অতিরঞ্জিত করার অভিযোগ তোলে এবং মধ্যপ্রাচ্য 'নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনায়' নিমজ্জিত হওয়ার ঝুঁকির কথা বলে।
চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করতে হবে এবং অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।
ইউক্রেন: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে, এটি গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইরানি ড্রোন ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
মধ্যপ্রাচ্য: ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি, যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছিলেন, হামলায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এতে রক্ষা পাবে না এবং 'এটি আপনার যুদ্ধ নয়'—এভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, অঞ্চলটি 'বিপজ্জনক মোড়' নিচ্ছে এবং লেবাননকে এমন কোনো অভিযানে জড়ানো হবে না যা দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে।
অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, তার দেশ 'ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।'
তিনি বলেন, ইরানকে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা জরুরি।
এই প্রতিক্রিয়াগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিশ্ব সম্প্রদায় গভীরভাবে বিভক্ত কেউ সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে, আবার কেউ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি