যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানে আতঙ্ক ও ভীতি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বহু মানুষ শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। খাদ্য মজুত করতে দোকানে ভিড় এবং জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
শনিবার সকালে হামলা শুরু হলে রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, যা কর্মসপ্তাহের শুরুতেই নগরবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তেহরান।
ফোনে যোগাযোগ করা বাসিন্দারা জানান, পরিস্থিতি ছিল বিশৃঙ্খল ও ভীতিকর। অনেকে স্কুল থেকে সন্তানদের দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসেন, আবার কেউ কেউ শহর ছাড়ার প্রস্তুতি নেন।
তেহরানের এক দোকানদার গোলামরেজা বলেন, “আমরা আমাদের নিজ শহর ইয়াজদে চলে যাচ্ছি। তেহরান আর নিরাপদ নয়। বলা হয়েছে সড়কপথ নিরাপদ, কিন্তু আমি খুবই উদ্বিগ্ন।” নিরাপত্তার কারণে তিনি তার পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি।
গত কয়েক সপ্তাহ আগে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে হাজারো মানুষের মৃত্যুর পর এটি ইরানিদের জন্য নতুন করে বড় ধাক্কা। এর আগেও গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানসহ আরও কয়েকটি শহরে হামলা অব্যাহত থাকতে পারে। জনগণকে সম্ভব হলে অন্য শহরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর তাবরিজের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী মিনু বলেন, “আমরা খুব ভয় পাচ্ছি। আমার সন্তানরা কাঁপছে। আমাদের যাওয়ার কোথাও নেই। এখানে হয়তো আমরা মারা যাব।” ফোনে কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকি দূর করবে এবং ইরানের জনগণকে তাদের শাসকদের অপসারণের সুযোগ করে দেবে। পেন্টাগন জানিয়েছে, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি