৪ মে ২০২৬

যে কারণে ট্রাম্পের আস্থা হারালেন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়েম

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:১১ পিএম
যে কারণে ট্রাম্পের আস্থা হারালেন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়েম

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব ক্রিস্টি নোয়েম

নোমান সাবিত: মঙ্গলবার সিনেটের এক শুনানিতে ক্রিস্টি নোয়েম দাবি করেছিলেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার নেতৃত্ব প্রচারের জন্য পরিচালিত ২২০ মিলিয়ন ডলারের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) বিজ্ঞাপন প্রচারণার অনুমোদন দিয়েছিলেন। রিপাবলিকান সিনেটর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত নোয়েমের চাকরি হারানোর 'শেষ কারণ' হয়ে দাঁড়ায়।
সূত্রগুলোর মতে, জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প নোয়েমকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। তবে তখন তিনি তা করেননি, কারণ এতে ডেমোক্র্যাটদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন—এমন ধারণা তৈরি হতে পারত।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন (রিপাবলিকান–সাউথ ডাকোটা) বৃহস্পতিবার বলেন, নোয়েমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা 'কিছুদিন ধরেই' চলছিল।
একজন রিপাবলিকান সিনেটর, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, বলেন নোয়েমের এই দাবি যে ট্রাম্প নিজে বিজ্ঞাপন অনুমোদন করেছিলেন, এটা ছিল 'শেষ ধাক্কা', কারণ এতে প্রেসিডেন্টকে সম্ভাব্য কেলেঙ্কারির মধ্যে টেনে আনা হয়েছে।
২২০ মিলিয়ন ডলারের এই করদাতাদের অর্থে পরিচালিত বিজ্ঞাপন প্রচারণা বিতর্কের জন্ম দেয়, কারণ ডিএইচএস নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে নোয়েমের রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 'স্ট্র্যাটেজি গ্রুপ' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে চুক্তিটি দেয়।
সিনেট বিচারবিষয়ক কমিটির সদস্য থম টিলিস (রিপাবলিকান–নর্থ ক্যারোলাইনা) বলেন, নোয়েম তার ঘনিষ্ঠজনদের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন এমন ধারণা উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, 'এখানে কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো নিয়ে আমাদের ব্যাখ্যা খুঁজে বের করতে হবে। হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তে এসব বিষয় প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে হয়।'
টিলিস আরও বলেন, 'দেখতে বিষয়টি মোটেও ভালো লাগছে না।'
তিনি নোয়েমের এই ব্যাখ্যাও বিশ্বাস করেননি যে তিনি চুক্তি প্রদানে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন না। কারণ নোয়েম নিজেই একটি নীতি চালু করেছিলেন, যেখানে ১ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সব চুক্তি তাকে ব্যক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করতে হয়।
টিলিস বলেন, 'সমস্যা হলো তিনি নিজেই বলেছেন যে তিনি সবকিছু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেন, অথচ ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এই দুই বিষয় কীভাবে মিলবে?'
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় যখন তারা জানতে পারেন যে ডিএইচএসের মহাপরিদর্শক (আইজি) এই বিষয়টি তদন্ত করতে চাইলে নোয়েম সহযোগিতা করেননি।
একজন রিপাবলিকান সিনেটর বলেন, 'ডিএইচএসের আইজি থেকে আমরা বার্তা পেয়েছি যে তিনি তার তদন্তে সহযোগিতা পাচ্ছেন না।'
মঙ্গলবার এই বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন সিনেট বিচারবিষয়ক কমিটির সদস্য জন কেনেডি (রিপাবলিকান–লুইজিয়ানা) শুনানিতে নোয়েমকে কঠোরভাবে প্রশ্ন করেন এবং বিজ্ঞাপন প্রচারণাকে করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে সমালোচনা করেন।
নোয়েম ওই শুনানিতে দাবি করেন যে ট্রাম্প নিজেই এই বিশাল প্রচারণার অনুমোদন দিয়েছেন যেখানে তাকে মাউন্ট রাশমোরের সামনে ঘোড়ায় চড়ে থাকতে দেখা যায়।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা পরে জানান, এই বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট 'ক্ষুব্ধ' হয়েছিলেন।
শুনানির পরপরই ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ওকলাহোমার সিনেটর মার্কওয়েন মুলিনের নাম আলোচনা করেন, যাকে পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করেন যে তিনি কখনও এমন বড় অঙ্কের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত বিজ্ঞাপন প্রচারণার অনুমোদন দিতেন না।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না।'
ক্যাপিটল হিলের কিছু রিপাবলিকান আশঙ্কা করছেন, যদি প্রমাণ হয় যে নোয়েম করদাতাদের অর্থ অপব্যবহার করেছেন বা চুক্তির নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে এটি বড় তদন্তের বিষয় হতে পারে।
এদিকে মিনিয়াপোলিসে আইসিই অভিযানের সময় আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টিকে 'ঘরোয়া সন্ত্রাসী' বলেও সমালোচনার মুখে পড়েন নোয়েম। ভিডিও ফুটেজে তার দাবির সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা গেলেও তিনি এ বক্তব্য দেন।
এরপর ট্রাম্প সীমান্ত বিষয়ক উপদেষ্টা টম হোমানকে মিনিয়াপোলিসে পাঠিয়ে অভিবাসন অভিযান তদারকির দায়িত্ব দেন, যা নোয়েমের ভূমিকা কার্যত কমিয়ে দেয়।
যদিও জানুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে নোয়েম 'খুব ভালো কাজ করছেন' এবং তিনি পদত্যাগ করবেন না।
তবে ২৯ জানুয়ারির এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে নোয়েমের নীরবতা অনেকের কাছে ইঙ্গিত দেয় যে তার পদে থাকা দিনগুলো হয়তো শেষের দিকে।
রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস ও লিসা মারকোস্কি (আলাস্কা) প্রকাশ্যে নোয়েমকে পদত্যাগের আহ্বানও জানান।
টিলিস বলেন, 'তিনি এই দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট দক্ষ নন। তিনি নেতৃত্ব দিতে বা পরিস্থিতি শান্ত করতে জানেন না। এতে আইসিই কর্মকর্তাদের এবং সাধারণ নাগরিকদের ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।'
মারকোস্কি বলেন, 'আমি তাকে আবার সমর্থন করব না। আমার মনে হয় এখন তার সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতি আরও খারাপ করে।'
এদিকে ডেমোক্র্যাটরা ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থায়ন আটকে রেখেছে এবং আইসিই ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের সংস্কারের জন্য ১০ দফা দাবি জানিয়েছে।
সিনেট নেতা থুন বলেন, ট্রাম্পের নোয়েমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিভাগটির অর্থায়ন চুক্তি করার পথ সহজ করতে পারে।
তিনি বলেন, 'প্রশাসনের এই পদক্ষেপ একটি বড় অগ্রগতি হতে পারে। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছিল।'

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি