৪ মে ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর শুল্ক প্রাচীর পুনর্গঠনে ট্রাম্পের তড়িঘড়ি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর শুল্ক প্রাচীর পুনর্গঠনে ট্রাম্পের তড়িঘড়ি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

নোমান সাবিত: সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বাণিজ্য নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বাতিল করে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক প্রাচীর গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আদালত রায় দিয়েছে, শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা দেখাতে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল না।
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের আগে ট্রাম্প বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোচ্ছেন এবং প্রায় সব মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারের ওপর আরোপিত শুল্কের পরিবর্তে নতুন কাঠামো তৈরির ভিত্তি প্রস্তুত করছেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হলেও হাজারো ব্যবসার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তারা এখন শুল্ক ফেরতের যোগ্য হতে পারে।
তবে পুরোনো শুল্কের পরিবর্তে নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাতে এখনও যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে, এবং সমালোচকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উদযাপন না করার জন্য তিনি বাণিজ্য অংশীদারদের সতর্ক করেছেন।
সোমবার ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “যে কোনো দেশ যদি এই হাস্যকর সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘খেলা’ করতে চায় বিশেষ করে যেসব দেশ বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়েছে তাদেরকে আরও বেশি এবং কঠোর শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে, যা তারা সম্প্রতি মেনে নেওয়া শুল্কের চেয়েও কঠিন হবে।”
তিনি আরও লিখেছেন, 'ক্রেতারা সতর্ক থাকুন!”
শুক্রবার প্রকাশিত ৬–৩ ভোটের রায়ে আদালত জানিয়েছে, ১৯৭৭ সালের আইইইপিএ আইনের অধীনে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা পান না। আইনটি জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির প্রতিক্রিয়ায় বাণিজ্য 'নিয়ন্ত্রণ' করার ক্ষমতা দিলেও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা দেয় না যা সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের একচ্ছত্র অধিকার।
গত বছর ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প আইইইপিএ ব্যবহার করে কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, দাবি করেছিলেন এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল পাচার ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এপ্রিলের 'লিবারেশন ডে' ঘোষণায় তিনি আরও বহু দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেন, যদিও পরে বাজার অস্থিরতা ও আলোচনার কারণে অনেক শুল্ক কমানো হয়।
তবে কংগ্রেস অন্যান্য আইনের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসকে কিছু শুল্ক ক্ষমতা আগে থেকেই অর্পণ করেছিল, যা ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ব্যবহার করেছিলেন এবং দ্বিতীয় মেয়াদেও পুনরায় প্রয়োগের পথে হাঁটছেন। কেপিএমজি ইউএস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান স্বংক এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, 'হোয়াইট হাউস নেতিবাচক ফলাফলের জন্য প্রস্তুত ছিল। অবৈধ ঘোষিত শুল্ক অন্য আইনি পথ ব্যবহার করে দ্রুত পুনর্বহাল করা সম্ভব এ জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।'
ট্রাম্পের প্রথম পদক্ষেপ ছিল ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে ১০ শতাংশ সার্বজনীন শুল্ক আরোপ করা। এই বিধান অনুযায়ী বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য সমস্যার সমাধানে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি কর ১৫০ দিনের জন্য নির্ধারণ করতে পারেন। পরে ট্রাম্প এ শুল্ক ১৫ শতাংশে বাড়ানোর হুমকিও দেন।
বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সত্যিই এমন লেনদেন ভারসাম্য সমস্যা আছে কি না বা প্রেসিডেন্ট এককভাবে তা নির্ধারণ করতে পারেন কি না। তবে ১৫০ দিনের সময়সীমা ও সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ সময় এ প্রশ্নকে আপাতত গৌণ করে তুলতে পারে।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো এডওয়ার্ড অ্যালডেন বলেন, 'প্রেসিডেন্ট নিজেকে এসব আইনের ভাষায় খুব বেশি সীমাবদ্ধ মনে করেন না। তিনি এগুলোকে প্রয়োজনে ব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে দেখেন—তাই এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।'
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, যা অন্যায্য বাণিজ্য আচরণের প্রতিক্রিয়ায় আমদানি কর আরোপের ক্ষমতা দেয়। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর এই ধারায় শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা পরবর্তী প্রশাসনও বহাল রাখে।
অ্যালডেন বলেন, সেকশন ৩০১-এর অধীনে শুল্ক আরোপের দীর্ঘ ইতিহাস থাকায় আদালতে চ্যালেঞ্জ হলেও এসব নতুন শুল্ক টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। এটি তুলনামূলক ধীর প্রক্রিয়া এবং জনমত জানানোর সুযোগ দেয়।
এ ছাড়া ট্রাম্প ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের সেকশন ২৩২ ব্যবহার করেও নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারেন, যা জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। প্রথম মেয়াদে তিনি ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন ধাতুর ওপর এই ধারায় শুল্ক আরোপ করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, কাঠ, এমনকি কিছু আসবাবপত্রের ওপরও সেকশন ২৩২ শুল্ক বিস্তৃত করেছেন এবং জ্বালানি, ওষুধসহ আরও পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
অ্যালডেন বলেন, কিছু সেকশন ২৩২ শুল্কের জাতীয় নিরাপত্তা যুক্তি দুর্বল হলেও ঐতিহাসিকভাবে আদালত প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে অনীহা দেখিয়েছে।
যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প তাঁর আমদানি কর কাঠামো পুনর্গঠন করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, আদালতের রায় ও তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
নতুন সার্বজনীন শুল্ক এমনকি আইইইপিএ-এর অধীনে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের চেয়েও বেশি হতে পারে, বিশেষ করে যেসব দেশ হোয়াইট হাউসের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। অন্যদিকে আলোচনায় অনীহা দেখানো দেশগুলো আগে বেশি শুল্কের মুখে পড়লেও এখন সাময়িকভাবে কম বাধার সুযোগ পেতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের গবেষণা নোটে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং বাণিজ্য প্রবাহে অস্থিরতা বাড়াতে পারে—যেখানে কম শুল্কের দেশ থেকে আমদানি বাড়তে পারে এবং বেশি শুল্কের দেশ থেকে আমদানি কমে যেতে পারে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি