৪ মে ২০২৬

অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

নোমান সাবিত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের পণ্য ব্যবহার বন্ধ করতে মার্কিন সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে শুক্রবার পেন্টাগন কোম্পানিটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার পদক্ষেপ নেয় যা সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের প্রশ্নে চলমান উচ্চঝুঁকির বিরোধকে আরও তীব্র করেছে।
প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তির অংশ হিসেবে অ্যানথ্রপিক তাদের প্রযুক্তি মার্কিন নাগরিকদের ব্যাপক নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে কি না এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কোম্পানি ও পেন্টাগনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'অ্যানথ্রপিকের বামপন্থী উগ্রপন্থীরা আমাদের যুদ্ধ বিভাগকে তাদের পরিষেবা শর্ত মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করে বড় ভুল করেছে। তাই আমি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিটি ফেডারেল সংস্থাকে অবিলম্বে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছি। আমাদের এটি দরকার নেই, আমরা এটি চাই না এবং তাদের সঙ্গে আর ব্যবসা করব না।'
তিনি জানান, ছয় মাসের মধ্যে অ্যানথ্রপিকের পণ্য পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে। এই ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা আগে পেন্টাগন অ্যানথ্রপিককে শর্ত শিথিলের জন্য সময়সীমা দিয়েছিল। সময়সীমা পার হওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কোম্পানিটিকে জাতীয় নিরাপত্তার সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে ব্যবসা থেকে কার্যত নিষিদ্ধ করেন।
হেগসেথ এক পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বিভাগ অ্যানথ্রপিককে সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি হিসেবে ঘোষণা করছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা কোনো ঠিকাদার, সরবরাহকারী বা অংশীদার কোম্পানিটির সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। তবে নির্বিঘ্ন রূপান্তরের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কোম্পানিটি সেবা দিতে পারবে।
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা এই ঘোষণার বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাবে। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আইনি ভিত্তিহীন এবং ভবিষ্যতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা যে কোনো মার্কিন কোম্পানির জন্য বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে।
হেগসেথের বক্তব্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতে হলে অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে সব ব্যবসা বন্ধ করতে হবে—এই দাবিও কোম্পানিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, আইন অনুযায়ী সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি ঘোষণার প্রভাব কেবল প্রতিরক্ষা বিভাগের চুক্তিতে ক্লড মডেলের ব্যবহারের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
অ্যানথ্রপিক জানায়, কয়েক মাসের আলোচনায় তারা সৎভাবে সমঝোতার চেষ্টা করেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এআই ব্যবহারের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমর্থন জানিয়েছে—তবে দুটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং মার্কিন নাগরিকদের ব্যাপক নজরদারি। কোম্পানির মতে, বর্তমান এআই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয় এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাপক নজরদারি মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।
শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটের মধ্যে শর্ত প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছিল পেন্টাগন। শর্ত না মানলে চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি কোরীয় যুদ্ধকালীন ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
হেগসেথ অ্যানথ্রপিকের আচরণকে 'অহংকার ও বিশ্বাসঘাতকতার উদাহরণ' বলে মন্তব্য করে বলেন, কোম্পানিটি মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্তে ভেটো ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরক্ষা বিভাগের বৈধ সব উদ্দেশ্যে অ্যানথ্রপিকের মডেলের পূর্ণ ও অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
এই নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে এল যখন প্রায় ৩৮০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়িত অ্যানথ্রপিক এ বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও পেন্টাগনের ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি কোম্পানির প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের আয়ের তুলনায় ছোট অংশ, তবুও প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্যান্য চুক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যানথ্রপিকের সিইও ডারিও আমোদেই বৃহস্পতিবার জানান, পেন্টাগনের চাপের মুখেও কোম্পানি অবস্থান বদলাবে না। তার ভাষায়, সামরিক সিদ্ধান্ত সরকারই নেয়—তবে অভ্যন্তরীণ ব্যাপক নজরদারি ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বর্তমান প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের সীমার বাইরে।
পেন্টাগনের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানিটি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। অন্যদিকে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন ও পেন্টাগন নীতিমালাই ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ ব্যাপক নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
এদিকে সম্ভাব্য বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নাও হতে পারে। একই দিনে ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান জানান, সামরিক ব্যবহারে কিছু 'লাল রেখা' নির্ধারণে তিনি অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে একমত। ওপেনএআই, গুগল ও ইলন মাস্কের এক্স এআইসহ অন্যান্য কোম্পানিরও প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে এবং তারা আইনি ব্যবহারের শর্তে প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো কোম্পানির এভাবে প্রকাশ্য বিরোধ অত্যন্ত বিরল। তবে নতুন ও অপরীক্ষিত প্রযুক্তি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে এই ব্যতিক্রমী ও প্রকাশ্য সংঘাত বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি