৫ মে ২০২৬

অর্থ আত্মসাতের দায়ে 'ফোবানা' থেকে রাসেল-শিব্বির আজীবন বহিস্কার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
অর্থ আত্মসাতের দায়ে 'ফোবানা' থেকে রাসেল-শিব্বির আজীবন বহিস্কার
ছাবেদ সাথী: দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনকেন্দ্র নামে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা)’র গত ৩৫তম সম্মেলনের আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে আজীবন বহিস্কার করা হয়েছে। ফোবানার সাংবিধানিক ধারা লঙ্ঘন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাসহ সংগঠনের সুনাম ক্ষুন্ন করার অভিযোগে তাদেরকে আজীবনের জন্য ফোবানার সদস্যপদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। ফোবানার চেয়ারম্যান রেহান রেজা ও নির্বাহী সম্পাদক মাসুদ রব চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। ফোবানার চেয়ারম্যান ও নির্বাহী সম্পাদক উল্লেখ করেন গত ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত ফোবানার নির্বাহী কমিটি গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৫তম ফোবানার স্বাগতিক সংগঠন 'আমেরিকান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি' এবং গত ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনের আহবায়ক জিআইরাসেল ও সদস্য সচিব শিব্বির আহমেদকে ফোবানা ফোবানার সাংবিধানিক ধারা লঙ্ঘন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি এবং সংগঠনের সুনাম ক্ষুন্ন করার অভিযোগে আজীবনের জন্য ফোবানার সদস্যপদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংবিধান বিরোধী কার্যকলাপের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিকার ও সংশোধনকল্পে কার্যকরী পদক্ষেপ ধারা অনুযায়ী ভোট প্রদানের ভিত্তিতে গণত্রান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের এ বহিস্কার সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে কর্যকর ঘোষণা করা হয়েছে এবং ফোবানার কোন ধরণের কর্মকান্ডের সাথে তাদের কখনোই কোন ধরণের কোন সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা থাকবে না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা নামে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা)’র গত ৩৫তম সম্মেলন সফলে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি (এবিএফএস)। মেট্রো ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার দুই প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সর্বনাশ হয়েছে ৩৫তম ফোবানা সম্মেলন। এর ফলে ৩৪ বছরের ঐতিহ্য হারিয়েছে ফোবানা সম্মেলন। আরও পড়ুন: শাড়িতে হাঁটুর নিচে বঙ্গবন্ধু, বিব্রত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ! গত বছর ২৬ নভেম্বর শুক্রবার শুরু হওয়া ফোবানা সম্মেলনে চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, শিল্পী-কলাকূশলী আর পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি চরম অবহেলার মধ্য দিয়ে রবিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। শতশত দর্শকশ্রোতার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন বাজে ফোবানা এর আগে কেউ দেখেনি। ম্যারিল্যান্ডের গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার ম্যারিয়ট হোটেলের ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮৯ স্কোয়ার ফুটের মিলনায়তনে আসন সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজক ও ফোবানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া বহিরাগত দর্শক উপস্থিত হয়েছিল মাত্র ২ শতাধিক। পরদিন শনিবার (২৭ নভেম্বর) দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনের সময় দর্শক উপস্থিত হয়েছিল প্রায় ৮ শতাধিক এবং রবিবার (২৮ নভেম্বর) রাত পৌনে ১১ টায় ঢাকার জনপ্রিয় শিল্পীদের গানের সময় দর্শকশ্রোতার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩ শতাধিক। গত ৩৪ বছরের ইতিহাসে এত কম সংখ্যক দর্শক এর আগে কোন ফোবানা সম্মেলনে দেখা যায়নি। অথচ গত দুই বছর ধরে আমেরিকান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি (এবিএফএস)-এর পক্ষে ঢাকঢোল পিটিয়ে ব্যাপক প্রচারনা চালান সম্মেলনের আহবায়ক জি আই রাসেল ও সদস্য সচিব শিব্বির আহমেদ নামের মেট্রো ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার দুই প্রতারক। ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনের নাম করে গত ২ বছর ধরে তারা দেশ ও বিদেশে পৃষ্টপোষকতার নামে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুষ্ঠানের প্রথম থেকেই জি আই রাসেল ও শিব্বির আহমেদ শিল্পীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, চুক্তি মোতাবেক তাদের সঠিক অর্থ প্রদান না করা, হোটেলে থাকের ব্যবস্থা ও পুরুস্কার প্রদানের নামে পৃষ্ঠপোষকদের সাথে নানা ধরণের প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্র ও শনিবার এ ধরনের আচরণের ফলে রবিবারের অনুষ্ঠানে উপভোগ না করেই হোটেলে ছেড়ে অধিকাংশ অতিথি বাড়িতে ফিরে যান। ফলে রবিবার সীমিত সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতে দেখা গেছে। আদায়কৃত অর্থের বেশির ভাগই তারা দু’জনের পকেটস্থ করেছেন বলে স্নগশ্লিষ্টরা অনেকেই ধারনা করছেন। শুধু তাই নয় এবারের ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আদম আমদানির জন্য লবিং করতে বেশ কয়েকদফা বাংলাদেশ পাড়ি জমান আহবায়ক জি আই রাসেল, সদস্য সচিব শিব্বির আহমেদ ও ফোবানা সম্মেলনের চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী। মোটা অংকের বিনিময়ে এবারে ৩৫তম ফোবানায় প্রায় ৬/৭ জন আদম নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে ২ জন ব্যাংক কর্মচারি রয়েছেন। এছাড়া আরও ৪/৫ জনকে সহযোগি শিল্পী হিসেবে নিয়ে আসেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন:  বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে ভুলন্ঠিত অরাজনৈতিক ফোবানা সম্মেলন! ওয়াশিংটন ডিসির এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রকে যার কেন্দ্র রয়েছে ‘আমেরিকান বাংলাদেশ বিসনেস অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি বাণিজ্যিক সংগঠন। যার নতুন নাম হয়েছে বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি। এই সংগঠনটি পূর্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সহযোগিতায় ২০০৯ ও ২০১১ সালে দুইবার ফোবানা সম্মেলন আয়োজন করে যা ভুয়া ফোবানা সম্মেলন হিসাবে বহুল পরিচিত রয়েছে। ফোবানা সম্মেলন এর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন এ স্বার্থান্বেষী কিছু ব্যক্তি ও প্রতারকচক্র সক্রিয় থাকবে এটাই স্বাভাবিক, তবে সম্মেলনটিই যখন কুক্ষিগত হয় তখন আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি নামক সংগঠনটির পরিচালক অথবা মূলব্যক্তি স্টল বরাদ্দ, বিজ্ঞাপনের অঙ্গীকার, ব্যাবসায়িক অঙ্গীকার, ভুয়া কাগজে আদম আমদানি এমন কোন কর্মকান্ড নেই যা ২০০৯ ও ২০১১ সালের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জি আই রাসেল করেননি। শুধুমাত্র সম্মেলনের নামে এবং বিভিন্ন অজুহাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের থেকে এই প্রতারকচক্রটি বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে প্রবাসী রেজাউল করিমে কাছ থেকে ১০ হাজার, গোলাম ফরিদ আক্তারের কাছ থেকে ১২ হাজার, রফিকুল ইসলামে কাছ থেকে ৭ হাজার, জাকির হোসেন কাছ থেকে ১৫ হাজার, ব্যবসা লাইসেন্স করার নাম করে রাশেদুজ্জামান (রোমান)এর কাছ থেকে ২৩ হাজার, শামীম আলীর কাছ থেকে ৩৯ হাজার ও মাইনুল ইসলাম তাপসের কাছ থেকে ৭ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। আরও পড়ুন: প্রতারকদের খপ্পরেই সর্বনাশ ৩৫তম ‘ফোবানা’ সম্মেলন! এমনকি ফোবানা সম্মেলন শেষ করে ভেনু ভাড়া না দিয়ে শুধুমাত্র ফোবানা সম্মেলন নয় বরং পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির মুখে চুনকালি লেপ্টে দিয়েছেন এই প্রতারকরা। পরবর্তীতে ফেডারেল কোর্টে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে পিটিশন দাখিল করেছেন। আলেক্সান্দ্রিয়া ফেডারেল কোর্ট তাকে এবং তার স্ত্রীকে দেউলিয়া হিসাবে রায় দেন। জিআই রাসেলের প্রতারণা শুধু ফোবানা সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতারণাই তার পেশা। কখনো সে ব্যবসার কথা বলে প্রতারণা করেন, কখনও রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে কখনওবা সমাজ সেবা বা ধর্মের নামে প্রতারণা করেন বলে ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন। এ প্রতারক্রটি উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যবসার কথা বলে ও ব্যবসায় অংশীদারিত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার ফাঁদে ফেলেছেন। যার মধ্যে নাইমা রহমান কাছ থেকে ২৬ হাজার, পিপলস এন্ড টেক এর আবু হানিপের কাছ থেকে ১৮ হাজার, মেজর আলমের কাছ থেকে ২০ হাজার, ড. রাজ্জাকে কাছ থেকে ৮০ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার প্রতারনার তালিকায় আছে নাম না জানা আরো অসংখ্য বাংলাদেশি। রাজনৈতিক প্রভাবের ভয়ে চুপ থাকলেও পরবর্তীতে অনেকেই তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের ও প্রতারণার বর্ণনা দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা হলো ড. রাজ্জাক এর ঘটনা। তার স্ত্রী ড. নাজমা জাহানের কাছ থেকে জানা যায়, ড. রাজ্জাক এই প্রতারককে কয়েক দফায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছিল ব্যবসায়িক কারণে। পরবর্তীতে যখন তিনি বুঝতে পারেন তিনি এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন তখন তার আর করার কিছু ছিল না। ড. রাজ্জাক মানসিক ভাবে প্রচন্ডভাবে ভেঙে পড়েন এবং এই মানসিক যন্ত্রনায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ফোবানা’র নতুন চেয়ারপারসন রেজা, সদস্য সচিব মাসুদ এই প্রতারচক্রটি এতটাই চতুর যে তার খপ্পরে যে পড়ে সর্বশান্ত না হওয়া পর্যন্ত তার জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না অনেকেই। তিনি মসজিদ উন্নয়ন তহবিল এ অনুদান এর কথা বলে আলেক্সান্দ্রিয়া বাংলাদেশি কমিউনিটির এর মসজিদ উন্নয়ন তহবিল থেকে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে অনেক দরিদ্র পরিবারকে উত্তর আমেরিকায় এনে কাজ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিবারগুলোকে সর্বশান্ত করছেন। যারা ফোবানার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত তাদের সকলেই কমবেশি জানেন এ প্রতারকের কূ-কীর্তির কথা। কিন্তু এতকিছু জেনেও ফোবানার অভ্যান্তরিণ একটি স্বার্থান্বেষী মহল শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য ফোবানা সম্মেলনকে আবার এই প্রতারকের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই প্রতারক তার কূ-কীর্তি আড়াল করতে তার মতো আরো কয়েকটি পকেট সংগঠনকে নিয়ে একটি আয়োজক গোষ্ঠি তৈরি করেছেন। আর শিকড়বিহীন ব্যাঙের ছাতার মত এ সংগঠনগুলো কখনও সামাজিক আন্দোলন ও সমাজমুলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল না। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি