নতুন বিলে লাখো আমেরিকানের জন্য ৩ হাজার ডলার নগদ সহায়তার প্রস্তাব
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স
নোমান সাবিত: সোমবার উত্থাপিত এক নতুন আইনপ্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নিয়ারদের ওপর বছরে ৫ শতাংশ সম্পদকর আরোপের কথা বলা হয়েছে। বিলটি পাস হলে লাখো পরিবারের জন্য বড় অঙ্কের সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খন্না 'মেক বিলিয়নিয়ার্স পে দেয়ার ফেয়ার শেয়ার অ্যাক্ট' নামে এই বিল উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে আগামী এক দশকে প্রায় ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম বছরেই বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা তার কম আয়কারী পরিবারগুলোর প্রত্যেক ব্যক্তিকে ৩,০০০ ডলার সরাসরি প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্যান্ডার্স ও খন্নার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৩৮ জন বিলিয়নিয়ারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮.২ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোসও রয়েছেন।
স্যান্ডার্স বলেন, 'অভূতপূর্ব আয় ও সম্পদ বৈষম্যের এই সময়ে, এই আইন বিলিয়নিয়ার শ্রেণিকে তাদের ন্যায্য অংশের কর পরিশোধে বাধ্য করবে, যাতে আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা কেবল ১ শতাংশের জন্য নয়, সবার জন্য কাজ করে।'
তিনি আরও বলেন, 'এমন দুর্নীতিগ্রস্ত করব্যবস্থা আর মেনে নেওয়া যায় না, যেখানে বিলিয়নিয়াররা গড় শ্রমিকের চেয়েও কম করহার পরিশোধ করেন।'
এই রাজস্ব ব্যবহার করে তারা মেডিকেইড ও অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টে ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাটছাঁট পুনর্বহাল করতে চান। তাদের মতে, এই কাটছাঁটের ফলে ৫০ হাজারের বেশি অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু ঘটতে পারে। এছাড়া মেডিকেয়ার কর্মসূচিতে দাঁত, দৃষ্টি ও শ্রবণসেবা অন্তর্ভুক্ত করা এবং সারা দেশে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের জন্য ন্যূনতম ৬০ হাজার ডলার বেতন নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে।
খন্না বলেন, 'এই দেশে গভীর অর্থনৈতিক বিভাজন রয়েছে। একদিকে সিলিকন ভ্যালির মতো এলাকায় বিপুল সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবারগুলো স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান ও মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। সামান্য সম্পদকর আরোপ করেই আমরা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারি।'
যদিও রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইলন মাস্কের প্রায় ৮৩৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের ওপর বছরে ৪২ বিলিয়ন ডলার কর দিতে হতে পারে। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে তার আনুমানিক ২২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের ওপর প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার কর দিতে হবে। একইভাবে জেফ বেজোসের ক্ষেত্রেও প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার কর প্রযোজ্য হতে পারে।
স্যান্ডার্স বলেন, 'যথেষ্ট হয়েছে। বিলিয়নিয়াররা সবকিছু একাই ভোগ করতে পারেন না। এখন সময় এসেছে সম্পদকর আরোপ করে শ্রমজীবী পরিবার, শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সংকট মোকাবিলায় সেই রাজস্ব ব্যবহার করার।'
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রস্তাবিত সম্পদকর নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কিছু অর্থনীতিবিদের মতে, ভোটাররা যদি তা অনুমোদন করেন, তাহলে ধনীরা অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারেন।
ইউগভের জানুয়ারি মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন সম্পদ বৈষম্য 'খুব বড় সমস্যা' ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৭৬ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ ইমানুয়েল সায়েজ ও গ্যাব্রিয়েল জুকমানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিলিয়নিয়ারদের ওপর ৫ শতাংশ বার্ষিক সম্পদকর আরোপ সম্পদের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ কমাতে কার্যকর হতে পারে এবং জনকল্যাণমূলক খাতে প্রয়োজনীয় রাজস্ব জোগান দিতে পারে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি