৪ মে ২০২৬

নিউ ইয়র্কে মজুরি আত্মসাতের মামলায় বিবাহিত দম্পতির দোষ স্বীকার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
নিউ ইয়র্কে মজুরি আত্মসাতের মামলায় বিবাহিত দম্পতির দোষ স্বীকার

মজুরি আত্মসাতের মামলায় বিবাহিত দম্পতির দোষ স্বীকার

ইমা এলিস: নিউ ইয়র্কের বিবাহিত দম্পতি ও তাদের পরিচালিত দুটি ক্লিনিং কোম্পানি কর্মচারীদের প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ না করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালত ক্রিশ্চিয়ান পেরেজ ও ইনেস পেরেজ মিরান্ডাকে ৩০ জন ভুক্তভোগী কর্মচারীকে মোট ২৮ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ-এর দপ্তর সুত্রে এ খবর জানা গেছে।
জেলা অ্যাটর্নি ক্যাটজ বলেন, এই আসামিরা তাদের ক্লিনিং কোম্পানির কর্মচারীদের উপার্জিত হাজার হাজার ডলার মজুরি পরিশোধ করেননি এবং ভেবেছিলেন তারা এ থেকে পার পেয়ে যাবেন। তার কার্যালয়ের হাউজিং অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন ব্যুরো তদন্ত করে এই শোষণ বন্ধ করেছে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে আসামিরা পাঁচ বছরের জন্য নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নতুন কোম্পানি নিবন্ধন করতে পারবেন না। মজুরি চুরির শিকার কেউ হলে জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক স্টেট শ্রম কমিশনার রবার্টা রিয়ার্ডন বলেন, শ্রম দপ্তরের প্রধান লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের চুরি হওয়া মজুরি উদ্ধার করা। এই রায় শ্রমিক শোষণকারী নিয়োগদাতাদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
ক্রিশ্চিয়ান পেরেজ (৪০) প্রথম ডিগ্রির প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তৃতীয় ডিগ্রির বড় ধরনের চুরি এবং শ্রম আইন অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ না করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ইনেস পেরেজ মিরান্ডা (৪২) শ্রম আইন অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ না করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
পেরেজের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান হলো- ক্লিনিং পাস এলএলসি ও ক্লিনিং পাস সেট ইট অ্যান্ড ফরগেট ইট এলএলসি এই মামলার অংশ ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী আসামিদের ২৮,২৭৭.৯১ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যার বেশিরভাগই ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পিটার ভ্যালোন জুনিয়র আগামী ২২ এপ্রিল সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। সে সময় ক্রিশ্চিয়ান পেরেজের পাঁচ বছরের প্রবেশন হওয়ার কথা রয়েছে। ইনেস পেরেজ মিরান্ডাকে ইতোমধ্যে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার বিবরণ ও তদন্তে জানা যায়, পেরেজ ২০২২ সালের ২৬ জুলাই  ক্লিনিং পাস এলএলসি এবং ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই ও ক্লিনিং পাস সেট ইট অ্যান্ড ফরগেট ইট এলএলসি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কোম্পানির ব্যাংক হিসাব, ক্লায়েন্ট বুকিং ও বেতন সংক্রান্ত সব বিষয় পরিচালনা করতেন এবং তার স্ত্রী কর্মীদের তদারকি করতেন।
পেরেজ বিজ্ঞাপন দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে কর্মীরা সাত দিনের মধ্যে তাদের মজুরি পাবেন এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম কেনার খরচও ফেরত দেওয়া হবে।
কিন্তু পরে বিভিন্ন কৌশলে কর্মীদের মজুরি আটকে রাখা হয়। কখনও কর্মীদের চেক নগদ করতে দেরি করতে বলা হয়, কখনও ভবিষ্যৎ তারিখের চেক বা পর্যাপ্ত অর্থবিহীন অ্যাকাউন্টের চেক দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের কোনও মজুরিই দেওয়া হয়নি এবং সরঞ্জামের খরচও ফেরত দেওয়া হয়নি।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভুক্তভোগীরা তাদের প্রাপ্য মজুরি ও খরচ ফেরতের দাবিতে বারবার টেক্সট ও ভিডিও বার্তা পাঠালেও সাড়া পাননি।
এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কুইন্স জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং নিউইয়র্ক স্টেট শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তারা যৌথভাবে কাজ করেছেন।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি