৪ মে ২০২৬

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে উপসাগর অঞ্চলে যুদ্ধের ছায়া

জোরালো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সমর্থন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৪ বিকাল
জোরালো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সমর্থন

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা আরব দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল অভিযানের প্রতি সমর্থন আরও কঠোর করতে পারে।

শনিবার উপসাগরীয় বিভিন্ন শহরের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যেতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ভবনগুলো। বাহরাইনের মানামার সিফ জেলায় একটি ভবনে ইরানি ড্রোন হামলার পর আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।

দুবাইয়ের বিলাসবহুল পাম জুমেইরাহ এলাকাতেও বিস্ফোরণের অভিঘাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একটি বিলাসবহুল হোটেলে আঘাত হানার পর বাসিন্দারা আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে থাকেন। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সংঘাত ইরানের সীমানা পেরিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দরজায় পৌঁছে গেছে—যেমনটি তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

“আমরাই এখন লক্ষ্যবস্তু”

Emirates Policy Center-এর সভাপতি ড. এবতেসাম আল-কেতবি বলেন, “এখন প্রমাণিত হয়েছে যে, লক্ষ্যবস্তু যুক্তরাষ্ট্র নয়—আমরাই সরাসরি আগুনের লাইনে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করার অজুহাতে প্রথমে উপসাগরেই আঘাত হেনেছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরান দেখাতে চাইছে—এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মিত্রই তার নাগালের বাইরে নয়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের অভিযানে সমর্থনের মূল্য বাড়াতেও এটি একটি কৌশল।

আল-কেতবি সতর্ক করে বলেন, “যেকোনো ভুল হিসাব পরিস্থিতিকে সংকেত বিনিময় থেকে সরাসরি উন্মুক্ত যুদ্ধে রূপ দিতে পারে।”

‘আন্তর্জাতিকীকরণ’ হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্র

উপসাগরীয় সূত্রগুলো বলছে, তেলসমৃদ্ধ আরব রাষ্ট্রগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান কার্যত “যুদ্ধক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিকীকরণ” করছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

Saudi Arabia, Qatar ও United Arab Emirates—যাদের অর্থনীতি উন্মুক্ত আকাশপথ, নিরাপদ নৌপথ ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল—তাদের জন্য বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাত বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে।

দুবাই পাবলিক পলিসি রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মোহাম্মদ বাহারুন বলেন, যুদ্ধকে যদি শাসন পরিবর্তনের লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে তা ইরানের জন্য অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হতে পারে। এতে তেহরান আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধঘোষণার মতো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সংঘাতের চরিত্র আমূল বদলে যাবে।”

কৌশলগত ভুল?

উপসাগরীয় বিশ্লেষক আবদেলখালেক আবদুল্লাহর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইরান কৌশলগত ভুল করছে। তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হলেও উপসাগরীয় দেশগুলো এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।”

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পরোক্ষ আলোচনায় তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ আলোচনার বাইরে রাখার অবস্থান নেয়।

তবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মত হলো—ওয়াশিংটনকে নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে রেখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাদের দৃষ্টিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও মিত্র মিলিশিয়ারা সরাসরি হুমকি।

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটলে তা মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি