ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে ট্রাম্পের ভাষণের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দিক
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শনিবার ভোরে ঘোষণা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা শুরু করেছে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা আট মিনিটের ভিডিও বার্তায় তিনি একে “বৃহৎ ও চলমান অভিযান” বলে উল্লেখ করেন এবং তেহরানে শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “তাদের কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।”
নিচে তার বক্তব্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—
১. হামলার যৌক্তিকতা: ‘আসন্ন হুমকি’
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো “ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি দূর করে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা।” তার ভাষায়, ইরানের কার্যকলাপ যুক্তরাষ্ট্র, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও মিত্রদের সরাসরি বিপদের মুখে ফেলেছে।
তিনি দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ইরান আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাছাকাছি এবং পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এসব দাবির পূর্ণ সমর্থন নেই বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।
২. আলোচনার পথ বন্ধ
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সমঝোতার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তেহরান তা গ্রহণ করেনি। তার ভাষায়, ইরান “আমাদের যা প্রয়োজন, তা দিতে রাজি হয়নি।”
উল্লেখ্য, নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর আমলে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ট্রাম্প সেই চুক্তিকে দুর্বল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
৩. ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
তবে এই অভিযান কতদিন চলবে বা কতটা বিস্তৃত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি। কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই হামলা চালানোয় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
৪. মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি
ট্রাম্প স্বীকার করেন, এ অভিযানে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধে হতাহত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি আকার নিলে তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—যা অতীতে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
৫. কৌশলগত লক্ষ্য: শাসন পরিবর্তন?
ট্রাম্প ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন অস্ত্র সমর্পণ করে, নতুবা “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও Israel ইরানে শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই অভিযান শুরু করেছে।
৬. ইরানি জনগণের প্রতি বার্তা
ইরানের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে… আমরা শেষ করলে তোমরাই সরকার গ্রহণ করবে।”
তিনি এটিকে প্রজন্মের পর প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এই অভিযানের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী এবং তা কতটা সফল হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, অভিযান ব্যর্থ হলে তা ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি