৪ মে ২০২৬

ইরান কার্যত একা, রাশিয়া ও চীন পাশে দাঁড়ায়নি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
ইরান কার্যত একা, রাশিয়া ও চীন পাশে দাঁড়ায়নি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক চাপের মুখে দেশটি এখন কার্যত একা হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার রাশিয়া ও চীন শুধু কূটনৈতিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কিন্তু সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তা দেয়নি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান সংঘাতকে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে বিভিন্ন দেশের জ্বালানি অবকাঠামো, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব হামলার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে এবং ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং পর্যন্ত বিভিন্ন রাজধানীতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহন হয় যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, সেই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।

ইরানের ছোড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সাইপ্রাস, আজারবাইজান, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে এসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজারবাইজান অভিযোগ করেছে, ইরানের দুটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে ঢুকে চারজনকে আহত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের সংযত অবস্থান একটি “ঠান্ডা কৌশলগত হিসাব”-এর ফল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে বড় ধরনের ঝুঁকি ও ব্যয় তৈরি হবে, যার লাভ খুবই সীমিত।

রাশিয়ার জন্য প্রধান অগ্রাধিকার এখন ইউক্রেন যুদ্ধ। তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বড় অংশ ইতোমধ্যে সেই যুদ্ধে ব্যয় হচ্ছে। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ধনী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও নিতে চায় না মস্কো।

অন্যদিকে চীন ঐতিহ্যগতভাবে দূরের সংঘাতে সরাসরি জড়ায় না। তাদের জোট সাধারণত বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অস্ত্র বিক্রির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নয়। চীনের প্রধান নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পূর্ব এশিয়া—বিশেষ করে তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর এবং যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতা।

তবে এই সংঘাত থেকে কিছু সুবিধাও পাচ্ছে রাশিয়া ও চীন। জ্বালানির দাম বাড়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যস্ত থাকায় ইউক্রেন ও পূর্ব এশিয়ার দিকে তাদের মনোযোগ কিছুটা কমছে।

চীনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশল সম্পর্কে বাস্তব সময়ে ধারণা পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাইওয়ান প্রসঙ্গে তাদের সিদ্ধান্তে কাজে লাগতে পারে।

এদিকে রাশিয়া ও চীন নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। উভয় দেশই বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনো রাশিয়া ও চীনের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই গুরুত্ব এতটা নয় যে তারা ইরানের জন্য সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে। সূত্র: রয়টার্স
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি