গ্রাহকদের নাগরিকত্ব তথ্য সংগ্রহে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করার বিষয় বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন
গ্রাহকদের নাগরিকত্ব সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করার সম্ভাব্য নির্বাহী আদেশ
আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে গ্রাহকদের নাগরিকত্ব সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করার সম্ভাব্য নির্বাহী আদেশ বা অন্য পদক্ষেপ বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা এমনটাই জানিয়েছেন।
মূলত ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের পর্যালোচনায় থাকা এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে নতুন ও বিদ্যমান উভয় গ্রাহকের কাছ থেকেই ব্যাংক হিসাব বজায় রাখতে পাসপোর্টের মতো নতুন ধরনের নথি চাওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।
সম্ভাব্য নির্বাহী আদেশ নিয়ে আলোচনায় ব্যাংক খাতের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিছু সূত্রের মতে, ব্যাংকগুলো ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের কাছে লবিং করেছে এবং প্রস্তাবটির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রশাসন এখনও বিভিন্ন বিকল্প নির্বাহী আদেশ বা ট্রেজারি বিভাগের প্রশাসনিক পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকগুলো অর্থপাচার ও অপরাধ প্রতিরোধে 'নো ইয়োর কাস্টমার' (কেওয়াইসি) নিয়মের আওতায় নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহে বাধ্য, যার মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এসব নিয়মে নাগরিকত্বের অবস্থা আলাদাভাবে সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা নেই এবং ব্যাংকগুলো নিয়মিতভাবে এ তথ্য সরকারকে দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রে অ-নাগরিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার ওপরও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ জোরদার করেছে এবং আইন প্রয়োগ কার্যক্রম বাড়িয়েছে।
প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, এখনো কোনো আদেশ অনুমোদিত হয়নি এবং হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো নীতিই চূড়ান্ত বলে ধরা হয় না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, “হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা সম্ভাব্য নীতিনির্ধারণ নিয়ে যে কোনো প্রতিবেদন ভিত্তিহীন জল্পনা।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আলোচনার বিষয়টি প্রকাশ করার পর আর্কানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন সামাজিক মাধ্যমে জানান, অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাংক হিসাব খোলা বন্ধ করতে তিনি আইন প্রস্তাব আনতে চান। গত বছর ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, 'আমেরিকান ব্যাংকিং ব্যবস্থা এমন একটি সুবিধা যা আইন ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এমন ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত।' এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, 'অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ রোধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপকে আমি জোরালোভাবে সমর্থন করি।'
প্রশাসন যে একটি পথ বিবেচনা করছে তা হলো ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিন্সন)-এর মাধ্যমে এ তথ্য সংগ্রহ করা। অর্থপাচারবিরোধী ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইনের প্রয়োগকারী এই সংস্থার বিধান অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক যাচাই এবং সন্দেহজনক বা বড় লেনদেন সম্পর্কে ফিন্সনকে অবহিত করতে হয়।
এর আগে মিনেসোটায় সোমালি বংশোদ্ভূত কয়েক ডজন বাসিন্দাকে ঘিরে একটি কল্যাণ জালিয়াতি কেলেঙ্কারি মোকাবিলায় এসব আইন ব্যবহারের পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। ঘটনাটি জাতীয় আলোচনায় এলে ট্রাম্প প্রশাসন মিনেসোটায় অতিরিক্ত আইসিই কর্মকর্তা মোতায়েন করে, যা দুই নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
জানুয়ারিতে ফিন্সন মিনেসোটার দুটি কাউন্টিতে ব্যাংক ও অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩,০০০ ডলারের বেশি বিদেশি লেনদেনের তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেয় যা সাধারণত ১০,০০০ ডলারের সীমার তুলনায় অনেক কম। ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে ১০,০০০ ডলারের সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে এবং মিনেসোটার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থপাচারবিরোধী আইন ফিন্সন -কে গ্রাহক পরিচয় যাচাইয়ে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে সে বিষয়ে কিছু স্বাধীনতা দেয়। তবে নতুন তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করতে হলে ফিন্সন-কে আনুষ্ঠানিক বিধি প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
এদিকে ফিন্সন এবং ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা জন হার্লি বিভাগ ছাড়তে যাচ্ছেন। গত জুলাইয়ে সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক গোয়েন্দা বিষয়ক ট্রেজারির আন্ডারসেক্রেটারি হিসেবে অনুমোদিত হার্লিকে একটি রাষ্ট্রদূত পদে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি