চার বছর বয়সে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা নারী এবার আইসিইর হাতে আটক
স্বামীর সঙ্গে মিলেনা আরায়া-ডেভিস
নোমান সাবিত: চার বছর বয়সে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এক নারীকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করেছে। ২৬ বছর বয়সী মিলেনা আরায়া-ডেভিস তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পেরু থেকে পর্যটক ভিসায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
১৫ বছর বয়সে তিনি ডিএসিএ কর্মসূচির জন্য আবেদন করেন, যা তরুণ অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের ঝুঁকি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ম্যাথিউ ডেভিস (২৭)-কে বিয়ে করার পর তিনি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন।
২০২৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারের সময় দম্পতির সম্পর্কের প্রমাণ অনুমোদিত হয়। তবে সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনজন আইসিই কর্মকর্তা কক্ষে প্রবেশ করে মিলেনাকে যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে প্রবেশ করেছিলেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
এরপর মিলেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হাত ও পা বেঁধে তাকে সান ডিয়েগোর ফেডারেল ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে ওটেই মেসা আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে সাত দিন আটক রাখা হয়, যেখানে তিনি আরও প্রায় ১৫০ জন নারীর সঙ্গে একটি সেলে ছিলেন। পরবর্তীতে একজন বিচারক তাকে মুক্তি দেন এবং এখন তিনি তার গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষা করছেন।
সান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা মিলেনা, যিনি একজন অ্যাসোসিয়েট ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি থেরাপিস্ট, বলেন, পুরো বিষয়টি খুবই বিভ্রান্তিকর।
তিনি বলেন, আমি গর্বিত পেরুভিয়ান ও লাতিনা, কিন্তু আমি এখানে বড় হয়েছি—যুক্তরাষ্ট্রই আমার বাড়ি। আমি নিজেকে পেরুভিয়ান-আমেরিকান মনে করি।
তিনি আরও বলেন, চার বছর বয়সে এখানে এসেছি এবং আমার বাবা-মা যা করতে বলেছেন সবই করেছি। আমি আমার কমিউনিটির জন্য কাজ করি, তবু আমাকে আমেরিকান হিসেবে দেখা হয় না এটা খুব অদ্ভুত অনুভূতি।
মিলেনা চার বছর বয়সে তার বাবা-মা গুইসেলা দোনায়রে ও হোসে আরায়ার সঙ্গে পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার ছোট বোন মিরান্ডা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হন। পরে ২১ বছর বয়সে পৌঁছালে মিরান্ডা তাদের গ্রিন কার্ড আবেদনকে সমর্থন করেন।
মিলেনা বলেন, আমার বাবা-মা পেরু থেকে এসেছিলেন কারণ তারা আমার বোন ও আমার জন্য ভালো শিক্ষা ও সুযোগ চেয়েছিলেন।
গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারের সময় তিনি বলেন, শুরুতে সাক্ষাৎকারটি ছিল খুবই স্বাভাবিক। কর্মকর্তা তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন। কিন্তু সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়।
মিলেনা বলেন,সাক্ষাৎকার নেওয়া নারী কর্মকর্তা খুবই স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলেন। শেষে তিনি বললেন আমাদের আই-১৩০ আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এরপর বললেন, আমি দুঃখিত, এটি আমার সিদ্ধান্ত নয়, কিন্তু কিছু মানুষ আপনার সঙ্গে কথা বলতে চায়।
তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে তিনজন আইসিই কর্মকর্তা ঢুকে আমাকে গ্রেপ্তার করেন। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এরপর তাকে হাত-পা বেঁধে সান ডিয়েগোর ফেডারেল ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।
প্রায় এক মাস পর, ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি, তার মামলার শুনানিতে একজন বিচারক মামলাটি বন্ধ করে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসি আইএস)-এর কাছে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি তার গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় আছেন।
মিলেনা বলেন, পুরো ঘটনাটি ছিল অমানবিক।
তিনি যোগ করেন,আমার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই একটি স্পিডিং টিকিটও না। আমি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছি, আমার ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি আছে। তবু আমাকে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি