৫ মে ২০২৬

১০০ মিলিয়ন ডলারের গয়না ডাকাতি

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গয়না ডাকাতির আসামীকে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের অনুমতি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গয়না ডাকাতির আসামীকে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের অনুমতি

নোমান সাবিত: ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি গয়না ডাকাতি মামলার এক সন্দেহভাজনকে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের অনুমতি দিয়েছে, ফলে তিনি বিচার এড়াতে এবং সম্ভাব্য কারাদণ্ড থেকে রেহাই পেতে সক্ষম হন।
৪২ বছর বয়সী জেসন নেলন প্রেসিলা ফ্লোরেস গত বছর অভিযুক্ত সাতজনের একজন ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সাঁজোয়া ট্রাককে অনুসরণ করে একটি গ্রামীণ ফ্রিওয়ের বিশ্রামকেন্দ্রে থামিয়ে সেখান থেকে হীরা, পান্না, সোনা, রুবি ও দামী ঘড়ি চুরি করা হয় যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গয়না ডাকাতি বলে মনে করা হচ্ছে।
ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক চালান থেকে চুরি এবং সেই চুরির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছর ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারত। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) ফ্লোরেসকে বহিষ্কার করে, তিনি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের আবেদন জানানোর পর।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে কিছু ক্ষতিগ্রস্ত গয়না প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী জেরি ক্রল বলেন, 'একটি বড় ফেডারেল চুরির মামলার আসামি যদি বিচারের আগেই দেশ ছেড়ে যায়, তাহলে ভুক্তভোগীরা কোনো উত্তর পায় না, কোনো রায় পায় না, কোনো সমাপ্তি পায় না।'
ফ্লোরেসের আইনজীবী জন ডি. রবার্টসন আদালতে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগপত্র বাতিলের আবেদন করেন এবং মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
তবে ফেডারেল কৌঁসুলিরা বলেন, তারা এখনও ফ্লোরেসকে বিচারের মুখোমুখি করতে চান। তাই ভবিষ্যতে আবার মামলা করার সুযোগ রেখে 'উইদাউট প্রেজুডিস' ভিত্তিতে অভিযোগ খারিজের আবেদন করেন তারা।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ফ্লোরেস বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং জামিনে মুক্ত ছিলেন। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে তাকে আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। ফেডারেল কৌঁসুলিরা জানান, তার বিরুদ্ধে অভিবাসন ডিটেইনার জারি হয়েছে এ বিষয়টি তারা জানতেন না।
রবার্টসন যুক্তি দেন, এটি তার মক্কেলের ফৌজদারি মামলার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং তাই মামলাটি খারিজ হওয়া উচিত।
নথি অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর একটি অভিবাসন শুনানিতে ফ্লোরেস চিলিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার আবেদন করেন। বিচারক তার স্বেচ্ছা প্রস্থানের আবেদন নাকচ করলেও চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করেন। এরপর তাকে ইকুয়েডরে বহিষ্কার করা হয়।
ফেডারেল কৌঁসুলিরা মামলাটি খারিজের বিরোধিতা করে বলেন, 'ফৌজদারি অভিযোগ বিচারাধীন থাকলে সাধারণত বেসামরিক অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আলাদাভাবে চলতে দেওয়া হয়। এই মামলায় সেটাই করা হয়েছে অনিচ্ছাকৃতভাবেই আসামির উপকারে, কারণ এখন সে বিচার, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ও শাস্তি এড়াতে পেরেছে, যদি না এবং যতক্ষণ না সে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসে।'
সাধারণত কোনো ফৌজদারি আসামির বিরুদ্ধে অভিবাসন প্রক্রিয়া চললে অভিবাসন কর্মকর্তারা কৌঁসুলিদের বিষয়টি জানিয়ে থাকেন। ছোটখাটো মামলায় কখনও কখনও আসামিরা বিচারের মুখোমুখি না হয়ে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সুযোগ পেয়ে থাকেন।
সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি লরি লেভেনসন বলেন, ফ্লোরেসের ঘটনাটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক, বিশেষ করে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায়।
তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, 'কৌঁসুলিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাকে কীভাবে বহিষ্কার করা হলো—এটা আমার বোধগম্য নয়। এখানে সত্যিই বাম হাত জানত না ডান হাত কী করছে।'
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ে সান ফ্রান্সিসকোর কাছে একটি আন্তর্জাতিক গয়না প্রদর্শনী থেকে বের হওয়া ব্রিঙ্কসের একটি ট্রাককে অনুসরণ করে এই ডাকাতি করা হয়। ভুক্তভোগীরা ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির দাবি করেছেন, যদিও ব্রিঙ্কস বলেছে চুরি হওয়া সামগ্রীর মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলারের কম।
নিরাপত্তা কোম্পানির দায়ের করা এক মামলায় বলা হয়েছে, ঘটনার সময় এক চালক ট্রাকের ভেতরে ঘুমাচ্ছিলেন, আর অন্যজন বিশ্রামকেন্দ্রে খাবার আনতে গিয়েছিলেন সেই সুযোগে চোরেরা ভেতরে ঢোকে।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি