যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অচলাবস্থার নাটকের মধ্যেই নতুন 'স্ন্যাপ' বিধিনিষেধ কার্যকর
নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের অচলাবস্থার কারণে নভেম্বর মাসে তহবিল না থাকায় ‘স্ন্যাপ’ সুবিধা বন্ধ থাকলেও শনিবার থেকে এ কর্মসূচির নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
মার্কিন কৃষি দপ্তরের (ইউএসডিএ) ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, যেখানে লাখো মানুষ তাদের বিকল্প সুবিধা যাচাই ও আবেদন করতে পারেন, সেখানে লেখা আছে 'তহবিল শেষ হয়ে গেছে।' ওয়েবসাইটের উপরের অংশে ইউএসডিএ জানিয়েছে, শনিবার থেকে সুবিধা বন্ধের জন্য দায়ী সেনেটের ডেমোক্র্যাটরা।
সেখানে বলা হয়েছে, সিনেট ডেমোক্র্যাটরা এখন পর্যন্ত ১৩ বার ভোট দিয়েছে খাদ্য কুপন কর্মসূচি (স্ন্যাপ) তহবিল না দেওয়ার পক্ষে। এই মুহূর্তে ১ নভেম্বর থেকে কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। আমরা এমন এক মোড়ে পৌঁছেছি যেখানে সেনেট ডেমোক্র্যাটদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি অবৈধ অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা ও লিঙ্গ রূপান্তর সার্জারির দাবিতে অটল থাকবে, নাকি সরকার পুনরায় চালু করে মা, শিশু ও দুর্বলদের পুষ্টিসহায়তা পৌঁছে দেবে।
তহবিল পুনরায় না আসা পর্যন্ত স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ থাকবে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট' শনিবার থেকে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করছে। আগামী দশকে আনুমানিক ১৮৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হ্রাসের ফলে কিছু মানুষ এ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে কর্মক্ষম, কিন্তু নির্ভরশীলহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তাদের এখন প্রমাণ দেখাতে হবে যে তারা মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ করছে, পড়াশোনা করছে বা কোনো প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত আছে। প্রমাণ না দিতে পারলে তারা সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত স্ন্যাপ সুবিধা পাবে।
এছাড়া ৬৫ বছরের নিচের যেকোনো সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ককে সুবিধা অব্যাহত রাখতে কাজের প্রমাণ দিতে হবে। আগে যেখানে ১৮ বছরের নিচে সন্তানের অভিভাবকেরা ছাড় পেতেন, এখন তা ১৪ বছরের নিচে সন্তান থাকা পর্যন্ত সীমিত করা হয়েছে। তরুণ, সাবেক সেনা সদস্য এবং গৃহহীন ব্যক্তিরাও এখন তিন মাসের বেশি সুবিধা পেতে হলে কাজের শর্ত পূরণ করতে হবে।
আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো অভিবাসীদের জন্য 'অ-নাগরিকদের স্ন্যাপ যোগ্যতা' সংক্রান্ত নিয়ম। এতে অ-নাগরিক মার্কিন নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা, কিউবান ও হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং অবৈধ অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউএসডিএ জানিয়েছে, অভিবাসীদের সুবিধা পুনঃনির্ধারণের সময় অঙ্গরাজ্য সংস্থাগুলোকে তাদের 'গৃহস্থালির অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা' নিতে হবে এবং যাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে, তাদের তা জানাতে হবে।
অন্যদিকে, আশ্রয় পাওয়া শরণার্থী ও মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা সুবিধা হারাবেন বলে ওরেগনের মানবসেবা বিভাগ এক স্মারকে জানিয়েছে।
তবে বিতর্ক রয়ে গেছে, ইউএসডিএ কি তার জরুরি তহবিল ব্যবহার করে নভেম্বর পর্যন্ত স্ন্যাপ সুবিধা প্রদান করতে পারবে কিনা। শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনকে স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জন ম্যাককনেল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যই শুধু জরুরি তহবিল ব্যবহার করা যাবে এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
স্ন্যাপ সুবিধা এতদিন কখনো বন্ধ করা হয়নি,” শুনানিতে ম্যাককনেল বলেন। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই স্বীকার করেছে যে ২০১৯ সালের মতো অচলাবস্থায়ও এই জরুরি তহবিল ব্যবহার করা যায়।
নভেম্বরের জন্য প্রায় ৫.২৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ আছে, কিন্তু কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রলিন্স জানিয়েছেন, পুরো মাসের জন্য প্রয়োজন ৯.২ বিলিয়ন ডলার।
শুক্রবার রলিন্স বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ভুল বলছে যে জরুরি তহবিল ব্যবহার করা সম্ভব। ধরা যাক, আজই ডেমোক্র্যাটরা সরকার পুনরায় চালু করতে রাজি হলো, তারপরও যদি হারিকেন মেলিসা বা অন্য কোনো দুর্যোগ আঘাত হানে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে সহায়তা পাঠাতে এই তহবিলই দরকার হবে।
তিনি আরও বলেন, এই তহবিল কেবল ব্যবহার করা যায় যখন মৌলিক বরাদ্দ অনুমোদিত থাকে। আর যদি তা ব্যবহার করা সম্ভবও হতো, তবুও নভেম্বরের অর্ধেক সময়ের ব্যয়ও এতে মেটানো যেত না। তাই দুই সপ্তাহ পর আবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।
পরে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, তিনি স্ন্যাপ তহবিল দেবেন, তবে নভেম্বর মাসে কিছুটা দেরিতে।
তিনি ট্রুথ সোশালে লেখেন, 'আমাদের সরকারি আইনজীবীরা মনে করেন, আমাদের হাতে থাকা কিছু অর্থ দিয়ে স্ন্যাপ সুবিধা প্রদান আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভব নয়, এবং এখন দুটি আদালত পরস্পরবিরোধী রায় দিয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, আমি চাই না আমেরিকানরা ক্ষুধার্ত থাকুক শুধু এই কারণে যে উগ্র ডেমোক্র্যাটরা সরকার পুনরায় চালু করতে অস্বীকার করছে। তাই আমি আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছি আদালতের কাছে যত দ্রুত সম্ভব ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য কীভাবে আমরা আইনসম্মতভাবে স্ন্যাপ তহবিল দিতে পারি।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব দেখাতে চান মেয়র মামদানি
সঙ্গীত একাডেমি