১০০ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা
যুক্তরাষ্ট্রে ঋণগ্রহীতা শিক্ষার্থীরা ডাকযোগে পাচ্ছেন সমঝোতার চেক
ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাভিয়েন্ট কর্মকর্তা
আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রে ঋণগ্রহীতা শিক্ষার্থীরা এখন ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে ডাকযোগে চেক পাচ্ছেন। বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাভিয়েন্ট (Navient)-এর সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে।
একটি ফেডারেল তদারকি সংস্থা কনজিউমার ফিনান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো (সিএফপিবি) -ন্যাভিয়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল যে প্রতিষ্ঠানটি ঋণগ্রহীতাদের পরিশোধ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছে। এর ফলে অনেকেই কম মাসিক কিস্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হন।
সিএফপিবি জানায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের কাছে চেক পাঠানো শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালের একটি মামলার নিষ্পত্তি হিসেবেই ২০২৪ সালে এই সমঝোতা হয়। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী ন্যাভিয়েন্টকে ফেডারেল শিক্ষার্থী ঋণ সার্ভিসিং থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ১০০ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
সিএফপিবি জানিয়েছে, এই অর্থ বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘রাষ্ট কনসাল্টিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর, যারা সমঝোতা তহবিল পরিচালনা করে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে এই অর্থপ্রদান বর্তমানে বিদ্যমান শিক্ষার্থী ঋণের পরিমাণ কমাবে না।
সিএফপিবি-এর সাবেক পরিচালক রোহিত চোপড়া বলেন, 'যদি ঋণগ্রহীতাদের সঠিকভাবে সেবা দেওয়া হতো, তাহলে লাখ লাখ আমেরিকান ডিফল্টের পরিণতি এড়াতে পারতেন।'
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ন্যাভিয়েন্ট ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়ায় ভুল করেছে, ডিফল্টে থাকা ঋণগ্রহীতাদের যথাযথ সহায়তা দেয়নি এবং সহ-স্বাক্ষরকারীর (cosigner) শর্তাবলী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে।
ন্যাভিয়েন্ট অভিযোগ অস্বীকার করলেও এক বিবৃতিতে জানায়, 'আমরা সিএফপিবি-এর অভিযোগের সঙ্গে একমত নই, তবে এই সমঝোতা আমাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কোম্পানির রূপান্তরের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ।
এই সমঝোতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে হয়। তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষার্থী ঋণ তদারকিতে আগের মতো সক্রিয় থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল কর্মীসংখ্যা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিএফপিবি-এর কর্মীসংখ্যা হ্রাস করেছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সিএফপিবি-এর প্রধান আইন কর্মকর্তার এক অভ্যন্তরীণ নোটে শিক্ষার্থী ঋণ তদারকি 'অগ্রাধিকারহীন' করার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে কিছু আইনপ্রণেতা ও নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী ঋণ খাতে তদারকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শিক্ষা বিভাগের ঋণ সীমা কমানোর পরিকল্পনার ফলে অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি ঋণদাতাদের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যেখানে ফেডারেল সুরক্ষা কম এবং সুদের হার বেশি হতে পারে।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একদল গত বছর এক চিঠিতে লিখেছেন, 'শিক্ষার্থী ঋণগ্রহীতারা, তাদের পরিবার ও পুরো অর্থনীতির ওপর এই ঋণের ভার গভীর প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ ঋণ যদি বেসরকারি ঋণদাতাদের হাতে চলে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।'
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি