৫ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯টি অঙ্গরাজ্যের ৮০ লাখ কর্মীর ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে জানুয়ারিতে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯টি অঙ্গরাজ্যের ৮০ লাখ কর্মীর ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে জানুয়ারিতে

নোমান সাবিত: নতুন বছরের উৎসব আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ১৯টি অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি–কর্মীরা জানুয়ারি থেকেই বাড়তি বেতন পেতে যাচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি হবে ঐতিহাসিক ছয়টি অঙ্গরাজ্যে প্রথমবারের মতো ন্যূনতম মজুরি প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৫ ডলার ছুঁবে।
বামপন্থী থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অর্থনৈতিক নীতি ইনস্টিটিউট (ইপিআই)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ১৯টি অঙ্গরাজ্যের মজুরি বৃদ্ধির ফলে ৮০ লাখ বা ৮ মিলিয়নের বেশি কর্মী উপকৃত হবেন। ইপিআই জানায়, নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক কর্মীরা এই বৃদ্ধির সুফল তুলনামূলকভাবে বেশি পাবেন। মিসৌরি ও নেব্রাস্কা –এর মতো রাজ্যে গড়ে বার্ষিক আয় প্রায় ১,০০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
একটি মানচিত্রে জানুয়ারিতে কোন কোন রাজ্যে কতটা বৃদ্ধি হচ্ছে তা দেখানো হয়েছে। বেশিরভাগ জানুয়ারির বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি–সমন্বয়ের কারণে হলেও, কিছু ক্ষেত্রে আইন বা গণভোটের ফলেও বাড়ছে। যেমন রোড আইল্যান্ড–এ আইন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১৫ ডলার থেকে ধাপে ধাপে ২০২৭ সালে ১৭ ডলার করা হবে, সেখানে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ন্যূনতম মজুরি ১৬ ডলারে পৌঁছাবে। আবার কয়েকটি রাজ্য বছরের পরে মজুরি বাড়াবে, ফ্লোরিডা সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ন্যূনতম মজুরি ১ ডলার বাড়িয়ে ১৫ ডলার করবে।


ইপিআই–এর সেবাস্তিয়ান মার্টিনেজ হিকি বলেন, এই দফার বৃদ্ধি ন্যূনতম মজুরি আন্দোলনের জন্য একটি 'গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।' তাঁর ভাষায়, এই জানুয়ারিতেই প্রথমবার এমন হবে যে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ ডলার–এর রাজ্যে বসবাসকারী কর্মীর সংখ্যার চেয়ে ১৫ ডলার বা তার বেশি ন্যূনতম মজুরি–এর রাজ্যে বসবাসকারী কর্মীর সংখ্যা বেশি হবে।
তবে রাজ্যভিত্তিক এই বৃদ্ধির ফলে অনেক এলাকায় স্থানীয় মজুরি ও ফেডারেল ন্যূনতম মজুরির ব্যবধান আরও স্পষ্ট হচ্ছে। অধিকাংশ রাজ্য ফেডারেল সীমার চেয়ে বেশি বেতন নির্ধারণ করলেও, এখনও ২০টি রাজ্য হয় ৭.২৫ ডলার বাধ্যতামূলক রেখেছে, নয়তো ফেডারেল সীমাকেই অনুসরণ করছে।
জাতীয় কর্মসংস্থান আইন প্রকল্প–এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ও নীতি বিশ্লেষক ইয়ানেট লাঠ্রপ বলেন, ১৫ ডলারের নতুন ন্যূনতম মজুরি বহু কর্মীর জন্য সহায়ক হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে তা এখনও যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, এই মজুরিগুলো যতই ইতিবাচক হোক না কেন, কোনো রাজ্য বা এলাকাতেই একা থাকা কর্মীর পূর্ণ জীবনযাত্রার খরচ পুরোপুরি মেটাবে না। ফলে সামর্থ্য–সংকট থেকে যাবে যদিও যেসব জায়গায় মজুরি বেশি বাড়ছে, সেখানে ব্যবধানের যন্ত্রণা কিছুটা কমবে।
রাজ্যগুলো নিজ উদ্যোগে মজুরি বাড়ালেও ফেডারেল পর্যায়ে বৃদ্ধি এখনো অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন–এর মেয়াদে ডেমোক্র্যাটরা ১৫ ডলারে তুলতে রিপাবলিকান সমর্থন পাননি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে ৭.২৫ ডলারের ঊর্ধ্বে বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা বললেও, তা বাস্তবায়নে এখনো কোনো আইনগত অগ্রগতি নেই।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি