ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে নিউ ইয়র্কে হাজারো মানুষের মিছিল, ‘নো কিংস’ স্লোগান
আইসিই'র বিরুদ্ধে হাজারো বিক্ষোভকারী
ইমা এলিস: অভিবাসন সংস্থা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই), ইরান যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'নির্বাহী ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ'-এর বিরুদ্ধে হাজারো বিক্ষোভকারী শনিবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের রাস্তায় নেমে আসে। তাদের একক স্লোগান ছিল—'নো কিংস' (কোনো রাজা নয়)।
'আমাদের চুপ করানো যাবে না' লেখা ব্যানার এবং 'আইসিই নিউ ইয়র্ক থেকে বের হও' দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভকারীরা মিডটাউন জুড়ে মিছিল করে। তারা ওয়াশিংটন ডিসি ও হোয়াইট হাউসে নীতিগত বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানায়।
এদিন একই ধরনের বিক্ষোভ ওয়াশিংটন ডিসি, ফিলাডেলফিয়া এবং আটলান্টাতেও অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার 'রাজনৈতিক অপব্যবহার' বন্ধের আহ্বান জানান এবং মেডিকেইড ও জনশিক্ষার মতো জরুরি খাতে বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁটের বিরোধিতা করেন।
এই মিছিলে যোগ দেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস, বিশিষ্ট অধিকারকর্মী আল শার্পটন এবং চলচ্চিত্র তারকা রবার্ট ডি নিরো। তারা 'আমরা আমাদের গণতন্ত্র রক্ষা করি' লেখা একটি হালকা সবুজ ব্যানার বহন করেন।
বিক্ষোভ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে ডি নিরো বলেন, যখন মানুষ ‘নো কিংস’ স্লোগান দেয়, আমি আসলে শুনি—‘নো ট্রাম্প’। অন্য প্রেসিডেন্টরাও ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করেছেন, কিন্তু কেউই আমাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য এমন অস্তিত্বগত হুমকি হয়ে ওঠেননি।
তিনি আরও বলেন, তাকে থামাতে হবে—এখনই থামাতে হবে। কংগ্রেস ও প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া তিনি এসব করতে পারতেন না। এটি ভয়ঙ্কর।
বিক্ষোভ ঘিরে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। গত মাসে গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে আইএসআইএস-প্রেরিত এক বিক্ষোভকারীর বোমা হামলার ঘটনার পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে এটি ছিল চতুর্থ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের ডানপন্থী ও অভিবাসীবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে কয়েক দফা বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র রক্ষা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রত্যাখ্যান।
গত অক্টোবরে প্রায় এক লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেয়, আর গত জুনে প্রথম বিক্ষোভে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বৃষ্টির মধ্যেও অংশগ্রহণ করে। জানুয়ারির সর্বশেষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার।
প্রথম বিক্ষোভে ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, গত অক্টোবরে কোনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানায় পুলিশ। তখন নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের জানায়, 'পাঁচটি বরো জুড়ে এক লাখের বেশি মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং কোনো বিক্ষোভ-সম্পর্কিত গ্রেপ্তার হয়নি।'
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি