৫ মে ২০২৬

শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক 'ছাই হয়ে যাবে'

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক 'ছাই হয়ে যাবে'

নোমান সাবিত: শনিবার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস (নর্থ ক্যারোলাইনা) ও লিসা মারকোস্কি (আলাস্কা) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে সামরিক শক্তিতে দখলের চেষ্টা হলে এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করবে এবং ন্যাটো জোটকে বিভক্ত করবে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টিলিস লেখেন, “গ্রিনল্যান্ডে প্রশিক্ষণের জন্য সামান্য কিছু সেনা পাঠানোর জবাবে আমাদের নিজেদের মিত্রদের ওপর এমন প্রতিক্রিয়া আমেরিকার জন্য খারাপ, আমেরিকান ব্যবসার জন্য খারাপ এবং আমেরিকার মিত্রদের জন্যও খারাপ। এটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও অন্যান্য প্রতিপক্ষদের জন্য দারুণ খবর, যারা ন্যাটোকে বিভক্ত দেখতে চায়।'
তিনি আরও বলেন, 'মাত্র কয়েকজন ‘উপদেষ্টা’ সক্রিয়ভাবে কোনো মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের জন্য জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপের পক্ষে চাপ দিচ্ছেনএটি চরম বোকামি। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উত্তরাধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ন্যাটো জোটকে শক্তিশালী করতে তিনি বছরের পর বছর যে কাজ করেছেন, তা দুর্বল করে দেয়।'
মারকোস্কি শুল্ক আরোপকে অপ্রয়োজনীয়, দণ্ডমূলক এবং এক গুরুতর ভুল বলে অভিহিত করেন।
এক্সে তিনি লেখেন, এগুলো আমাদের প্রধান ইউরোপীয় মিত্রদের আরও দূরে ঠেলে দেবে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে কিছুই করবে না। আমরা এর পরিণতি বাস্তব সময়েই দেখছি: আমাদের ন্যাটো মিত্ররা গ্রিনল্যান্ডে মনোযোগ ও সম্পদ সরাতে বাধ্য হচ্ছে, যা সরাসরি পুতিনের স্বার্থে কাজ করছে কারণ এতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জোটের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।
মারকোস্কি কংগ্রেসকে আহ্বান জানান, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতার ওপর তাদের কর্তৃত্ব ব্যবহার করে যেন সেগুলো 'এভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, যা আমাদের জোটকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আমেরিকান নেতৃত্বকে দুর্বল করে।'
টিলিস ও সিনেটর জিন শাহিন (ডি–নিউ হ্যাম্পশায়ার) দলমতনিরপেক্ষ সিনেট ন্যাটো অবজারভার গ্রুপের সহসভাপতি এবং তাদের সঙ্গে মারকোস্কি, সিনেট ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ডিক ডারবিন (ইলিনয়), সিনেটর ক্রিস কুনস (ডেলাওয়ার), প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স (নিউ ইয়র্ক), মাদেলিন ডিন (পেনসিলভানিয়া) ও সারা জ্যাকবস (ক্যালিফোর্নিয়া) শুক্রবার কোপেনহেগেনে গিয়ে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
শাহিন ও টিলিসের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের 'বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট' তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে চান এবং 'আমাদের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্য এগিয়ে নিতে চান।'
বিবৃতিতে বলা হয়, 'দীর্ঘদিনের চুক্তির কাঠামোর মধ্যে আর্কটিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও অন্যান্য অগ্রাধিকারে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে যখন ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ডিক মিত্ররা আগ্রহী, তখন গ্রিনল্যান্ডকে ব্যয়বহুলভাবে কেনা বা শত্রুতামূলক সামরিক দখলের কোনো প্রয়োজন বা ইচ্ছা নেই। আমরা যখন সিনেটে সহকর্মীদের সঙ্গে আবার বসব, তখন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসী জনগণের মতামতও তুলে ধরব, যারা প্রতিদিন এই বাস্তবতার মধ্যে বাস করেন।'
তারা আরও বলেন, এই পথে এগোনো আমেরিকার জন্য খারাপ, আমেরিকান ব্যবসার জন্য খারাপ এবং আমেরিকার মিত্রদের জন্যও খারাপ।” তারা টিলিসের বক্তব্য পুনরুল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক দুর্বল হলে তা “পুতিন ও শি-এর মতো প্রতিপক্ষদেরই উপকার করবে, যারা ন্যাটোকে বিভক্ত দেখতে চায়।
শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, ফ্রান্স, জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের ওপর এই শুল্ক আরোপ কার্যকর হবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে উত্তপ্ত বক্তব্যের মধ্যেই। এরপর ১ জুন থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।
ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, আমরা বহু বছর ধরে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশসহ অন্যদের ভর্তুকি দিয়ে আসছি—শুল্ক বা অন্য কোনো ধরনের পারিশ্রমিক না নিয়ে। এখন, শতাব্দীর পর শতাব্দী পরে, ডেনমার্কের সময় এসেছে কিছুটা ফেরত দেওয়ার—বিশ্ব শান্তি ঝুঁকির মুখে!
তিনি আরও যোগ করেন, গ্রিনল্যান্ড সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে কেনার” বিষয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক “প্রযোজ্য ও আদায়যোগ্য থাকবে।
ট্রাম্প তার প্রশাসনের আগের দাবি পুনরাবৃত্তি করে বলেন, আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের মোকাবিলায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, এবং মন্তব্য করেন গ্রিনল্যান্ডের কাছে নাকি 'রক্ষার জন্য মাত্র দুইটি কুকুর-টানা স্লেজ' রয়েছে।
এই সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোট্‌জফেল্ট এবং ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লুকে রাসমুসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাসমুসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে 'মৌলিক মতপার্থক্য' রয়েছে।
ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, 'আমরা আর্কটিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত চ্যালেঞ্জগুলো ভাগ করে নিই। কিন্তু আমরা একমত নই যে এগুলো সমাধান করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতেই হবে।'
বুধবার ডেনমার্ক ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে; ফ্রান্স ও সুইডেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্কের আয়োজিত যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠিয়েছে।
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড সামরিক শক্তিতে দখলের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে সামরিক পদক্ষেপের বিপক্ষে বিপুল সংখ্যক আমেরিকান। এমনকি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্য থেকেও আপত্তি এসেছে।
সিনেটর মিচ ম্যাককনেল (কেন্টাকি) সতর্ক করে বলেন, দ্বীপটি শক্তি প্রয়োগ করে দখল করলে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক 'ছাই হয়ে যাবে' এবং এটি “প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারকে তার পূর্বসূরির আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের চেয়েও বেশি বিপর্যস্ত করবে।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি