অগ্নিকাণ্ডের জেরে কলকাতায় ১৩ হোটেল বন্ধ, ১৬টি খালি করার নির্দেশ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অভিযান শুরু করেছে রাজ্য সরকার। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে কলকাতায় ইতোমধ্যেই ১৩টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আরো ১৬টি হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার ৫০টি এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার আরো ২৯টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বন্ধ করে দেয়াও বা নোটিশ পাওয়া হোটেলগুলোর বেশিরভাগই মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও এসএন ব্যানার্জি রোড এলাকায় অবস্থিত।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজ্য দমকল বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘মধ্য কলকাতার অন্তত ১৬টি হোটেলকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতার ৫০টির বেশি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।’
রাজ্যের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে।
কয়েকজন কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে’। তিনি জানান, হোটেলগুলোতে পরিদর্শন চলছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজ্যের নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘১০০টি হোটেল বন্ধ করার পরও আমরা থামব না। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল চলতে দেয়া হবে না। তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) এর দায় নিতে হবে।
’তিনি আরো বলেন, হোটেলগুলোর কক্ষ ছিল খুবই ছোট। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের কারণে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাহলে এসব হোটেল কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স পেল—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নিয়ম না মানলে হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার অন্তত ২৯টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানায় কেন সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
দমকল বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কিছু হোটেল কোনও ধরনের ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল। আবার কিছু হোটেলের লাইসেন্স চার থেকে পাঁচ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি।
এ ছাড়া অনেক হোটেলে বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ ছিল না, জরুরি গেট বন্ধ রাখা হতো, অনুমোদনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হতো, কক্ষে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না এবং অনুমোদন ছাড়াই ভবনের নকশা পরিবর্তন করা হয়েছিল। এ ধরনের আরও বেশ কিছু অনিয়মও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার ভোরে মধ্য কলকাতার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জন নিহত হওয়ার তিন দিন পর এই অভিযান শুরু হয়। ওই ঘটনায় হোটেলটির লিজধারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মধ্য কলকাতার ওই হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রও কয়েকদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন। ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনায় নিহত ৯ জনের সাতজনই বাংলাদেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত বাংলাদেশিদের ছয়জনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আরেকজনের মরদেহ গত শুক্রবার কলকাতাতেই দাহ করা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মন্দিরশহর তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুনে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর তারাপীঠের ১৫টি হোটেল ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিলেই ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল মার্কিন আদালতের
সঙ্গীত একাডেমি