নিউ ইয়র্কের সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ১৩ সদস্যের বিরুদ্ধে ৭৮০টি অভিযোগ
ইমা এলিস: কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং গভর্নর ক্যাথি হোকুল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঘোষণা করেছেন যে নিউ ইয়র্কসহ আরও আটটি অঙ্গরাজ্যের হোম ডিপো স্টোরগুলোকে লক্ষ্য করে চুরি করা পণ্য ও কালোবাজারি চক্র পরিচালনার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৭৮০টি অভিযোগে গ্র্যান্ড লারসেনি, ষড়যন্ত্র এবং চুরি করা সম্পত্তি রাখার অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কুইন্স-ভিত্তিক এই চোর চক্রটি ১৩ মাসে ৩১৯টি দলিলভুক্ত ঘটনায় ভবন নির্মাণের সরঞ্জাম, পাওয়ার টুলস, স্মোক অ্যালার্ম, এয়ার কন্ডিশনার, লন্ড্রি ডিটারজেন্ট, পেপার টাওয়েলসহ নানা ধরনের পণ্য চুরি করেছে, যার মূল্য ২২ লাখ ডলারের বেশি। এসব পণ্য পরে কালোবাজারি বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়, যারা নির্দিষ্ট পণ্য চুরির অর্ডার দিত এবং পরে সেগুলো ভোক্তাদের কাছে পুনরায় বিক্রি করত।
জেলা অ্যাটর্নি ক্যাটজ বলেন: ১৩ জন অভিযুক্ত, ২২ লাখ ডলারের বেশি পণ্য, ৩১৯টি চুরির ঘটনা, ৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ১২৮টি আলাদা হোম ডিপো স্টোর অভিযোগপত্রে এ সবই বর্ণিত হয়েছে, যার ফল হলো ৭৮০টি অভিযোগ। অভিযুক্তরা দুপুর ও রাতের খাবারের বিরতি নিত এবং কখনো কখনো একদিনে একই হোম ডিপো চারবার পর্যন্ত টার্গেট করত। চুরি করা পণ্যগুলো পরে ব্রুকলিনের একটি দোকান বা ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিক্রি করা হতো। আমরা নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশের সহযোগিতায় এই বেপরোয়া কার্যক্রম থামাতে পেরেছি। সংগঠিত খুচরা চুরি ও কালোবাজারি প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়ন করায় গভর্নর হোকুলকে ধন্যবাদ।
গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউ ইয়র্কের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধ কমানোই ছিল আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মহামারির পর খুচরা চুরি বেড়ে যাওয়ার পর আমি একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। জেলা অ্যাটর্নি, স্থানীয় পুলিশ এবং স্টেট পুলিশের জন্য শক্তিশালী আইন ও সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা সংগঠিত খুচরা চুরি চক্রকে দমন করছি এবং দোকানমালিক, কর্মচারী ও ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছি।
নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন জি. জেমস বলেন, এই মামলা সম্ভাব্য অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা খুচরা চুরি করলে আপনাকে খুঁজে বের করা হবে এবং আইন অনুযায়ী জবাবদিহি করতে হবে। খুচরা চুরির বাস্তব ভুক্তভোগী রয়েছে যা ক্রেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে, ব্যবসার জন্য বিশাল ক্ষতি সৃষ্টি করে এবং আমাদের সবার জন্য মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়।
হোম ডিপোর অ্যাসেট প্রোটেকশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট গ্লেন বলেন, আমাদের গ্রাহক, কর্মচারী ও সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা রক্ষা করা হোম ডিপোর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংগঠিত খুচরা অপরাধ রোধ করা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি আমাদের সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বিষয়। এই অপরাধচক্র বহু বছর ধরে হোম ডিপোর কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি করেছে। জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ ও নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের প্রচেষ্টার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
গতকাল ১১ জন অভিযুক্তকে ৭৮০টি অভিযোগে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রথম-ডিগ্রি গ্র্যান্ড লারসেনি এবং চুরি করা সম্পত্তি রাখার অভিযোগ রয়েছে। একজন এখনো পলাতক এবং আরেকজনকে পরে হাজির করা হবে।
কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডেভিড কার্শনার অভিযুক্ত চক্রের নেতাসহ সকলকে জানুয়ারিতে বিভিন্ন তারিখে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। চুরি চক্রের সদস্যদের দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২৫ বছর এবং কালোবাজারিদের সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
জুন ২০২৪-এ জেলা অ্যাটর্নির ডিটেকটিভ ব্যুরো একটি আলাদা তদন্তে হোম ডিপোর চুরি করা এয়ার কন্ডিশনার দেখতে পায়। পরে গাড়ির নম্বরপ্লেট রিডার এবং আদালত-অনুমোদিত ইলেকট্রনিক নজরদাসহ ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। হোম ডিপো ভিডিও ও নথিপত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ফ্লাশিংয়ের আরমান্দো দিয়াজ নেতৃত্বাধীন চোর চক্র প্রতিদিন ভোর ৫:৩০ মিনিটে একটি পার্কিং লটে মিলিত হয়ে দিনের লক্ষ্য ঠিক করত। হোম ডিপোর পণ্য মজুদ দেখে স্টোর নির্বাচন করা হতো।
দিয়াজ ও অন্যান্য সদস্যরা ভ্যান ও আরেকটি নজরদারি গাড়িতে করে স্টোরে যেত। তিন-চারজন আলাদা আলাদা প্রবেশ করত, ভেতরে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করত না। দিয়াজ ইয়ারবাডের মাধ্যমে নির্দেশ দিত কী চুরি করতে হবে, কীভাবে করতে হবে এবং কেউ নজর রাখছে কি না।
পণ্য সাধারণত ৯৬-গ্যালনের ডাস্টবিন অথবা কার্টে ভরে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। কখনো বড় প্লাইউড দিয়ে নিজেদের ঢেকে বের হতো। দোকানের কর্মীদের মনোযোগ বিচ্যুত করেও চুরি সহজ করা হতো।
‘লা মোনা’ নামে পরিচিত জোয়ানা ক্যারোলিনা ফার্মিন পার্কিং লটে অবস্থান করে পুলিশ পর্যবেক্ষণ করত। সবচেয়ে বেশি চুরি করা পণ্যের মধ্যে ছিল ইনসুলেশন কিট, ছাদ সিলার, পাওয়ার টুলস, এয়ার কন্ডিশনার, ধোঁয়া ও কার্বন মনোক্সাইড ডিটেক্টর ইত্যাদি।
একদিনে চুরি করা পণ্যের মূল্য ১,৮০০ থেকে প্রায় ৩৫,০০০ ডলার পর্যন্ত ছিল। চোর চক্র লাঞ্চ বিরতি নিয়ে দিনের দ্বিতীয় ধাপের চুরিতে যেত। চুরি করা পণ্য ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন ও এল্মহার্স্টের বিভিন্ন স্থানে কালোবাজারি বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হতো।
গতকাল আদালত-অনুমোদিত তল্লাশিতে তিনটি বাড়ি, ১৪টি স্টোরেজ ইউনিট এবং আটটি যানবাহন থেকে বিপুল পরিমাণ চুরি করা পণ্য উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য আনুমানিক ১৫ লাখ ডলার।
তদন্তে জেলা অ্যাটর্নির অফিস, নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সহযোগিতা করে। মামলাটি জেলা অ্যাটর্নির মেজর ইকনমিক ক্রাইমস ব্যুরোর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অভিযোগপত্র ও ফৌজদারি অভিযোগ কেবল অভিযোগ মাত্র; আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব দেখাতে চান মেয়র মামদানি
সঙ্গীত একাডেমি