নিউ ইয়র্কে লাইসেন্স বাতিল হওয়া আইনজীবীর তিন বছরের কারাদণ্ড
নোমান সাবিত: কুইন্সের জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ ঘোষণা করেছেন, অ্যাস্টোরিয়ার একটি চার্চ থেকে ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের দায়ে ডেব্রা হসকিন্সকে এক থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইন পেশা থেকে বহিষ্কৃত এই আইনজীবী ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গ্র্যান্ড লারসেনির (বড় ধরনের চুরি) অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হসকিন্স ‘হাউস অব প্রেয়ার অ্যান্ড ডেলিভারেন্স মিনিস্ট্রিজ, ইনক.’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রিয়েল এস্টেট লেনদেনের এসক্রো তহবিলে অনিয়মভাবে প্রবেশ করেন এবং নিজের অপরাধ ধামাচাপা দিতে চার্চের পাস্টরকে বিভ্রান্ত করেন।
জেলা অ্যাটর্নি কাটজ বলেন,একজন আইনজীবী হিসেবে আসামির কাছ থেকে সততা ও নৈতিক আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু আইন মেনে চলা এবং এই চার্চের তহবিল সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের বদলে তিনি নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। জনস্বার্থের প্রতি এই স্বীকৃত বিশ্বাসভঙ্গের জন্য এখন তাকে এক থেকে তিন বছর কারাভোগ করতে হবে।
কুইন্স ভিলেজের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী হসকিন্স তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রের পূর্ণ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম ডিগ্রির গ্র্যান্ড লারসেনির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি টনি সিমিনো সোমবার তাকে এক থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন।
ডিএ কাটজ জানান, অভিযোগ অনুযায়ী অ্যাস্টোরিয়ায় অবস্থিত ‘হাউস অব প্রেয়ার অ্যান্ড ডেলিভারেন্স মিনিস্ট্রিজ, ইনক.’-এর পাস্টর আব্রাহাম লেদার্স সিনিয়র চার্চের করপোরেশন বিলুপ্ত করা, সম্পত্তি বিক্রির লেনদেন সম্পন্ন করা এবং প্রাপ্ত অর্থ বিতরণের জন্য হসকিন্সকে নিয়োগ দেন। ২০১৮ সালের ১৮ মে সম্পত্তি বিক্রির চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন হয় এবং হসকিন্স ১০,১৯,৩৯৪.৬৫ ডলারের একটি চেক পান, যা এসক্রো হিসেবে রাখার কথা ছিল।
চেকটি ২০১৮ সালের ৭ জুন আসামির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আইনজীবীর ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে লেদার্স একাধিকবার তহবিলের প্রাপ্যতা সম্পর্কে হসকিন্সকে জিজ্ঞাসা করেন। হসকিন্স পাস্টরকে জানান যে অর্থ বিতরণের জন্য আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন।
২০২০ সালের ১৯ আগস্ট হসকিন্স আদালতে একটি ভুয়া হলফনামা দাখিল করেন, যেখানে দাবি করা হয় যে সম্পত্তি বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসক্রো হিসাবে ১১,১০,৭৮৯.৬৫ ডলার রয়েছে। এরপর লেদার্স অর্থ বিতরণের আবেদন জানিয়ে একটি হলফনামা দাখিল করেন। ২০২১ সালের ২৩ জুন আদালত অর্থ বিতরণের আদেশ দেয়।
ডিএর দপ্তরের তদন্তে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত এসক্রো হিসাবে থেকে ২,২৩,৪৩৭.৯১ ডলার ইতোমধ্যে উত্তোলন হয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালের জুনে অভিযোগকারীর চেক জমা দেওয়ার পর হসকিন্সের এসক্রো হিসাব আর কখনোই ১০ লাখ ডলারে ফিরে আসেনি। আর আদালতে হলফনামা দাখিলের সময় এসক্রো হিসাবে মাত্র প্রায় ১৯ হাজার ডলার অবশিষ্ট ছিল।
রিয়েল এস্টেট বিক্রির অর্থ থেকে লেদার্স মাত্র ২০ হাজার ডলার পান। এর আগেই, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি ভিন্ন মামলায় হসকিন্সের আইনজীবীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
এই মামলাটি জেলা অ্যাটর্নির পাবলিক করাপশন ব্যুরোর সহকারী জেলা অ্যাটর্নি ভিনেট ক্যাম্পবেল পরিচালনা করেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট জেলা অ্যাটর্নি (তদন্ত) জেরার্ড এ. ব্রেভের তত্ত্বাবধানে।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি