১৫ হাজার ডলারের বেশি আত্মসাত
নিউ ইয়র্কে আইনজীবী সেজে অর্থ আত্মসাতের দায়ে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ
নোমান সাবিত: নিউ ইয়র্কের করোনা এলাকার এক নারীকে আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা করে অভিবাসন সেবার নামে ১৫ হাজার ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে লিওনার্দো ফেরেত্তির বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসেনিসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ জানিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন, একটি ভুয়া বিজনেস কার্ড দেন এবং নিজের ভুয়া পড়াশোনা ও পেশাগত অগ্রগতির গল্প শোনাতে থাকেন, যাতে তিনি একজন যোগ্য আইনজীবী বলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ১৫,৩০০ ডলার নেন এবং এরপর সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ক্যাটজ বলেন,অভিযোগ অনুযায়ী, এই আসামি অত্যন্ত ধৈর্য ও নিষ্ঠুরতার সঙ্গে একজন আইনি সহায়তার প্রয়োজন থাকা ভুক্তভোগীর সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েছেন। বিশ্বাস অর্জনের পর তিনি তার কাছ থেকে ১৫ হাজার ডলারের বেশি নিয়ে উধাও হয়ে যান। আমি ভুক্তভোগীকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের দপ্তরে এসে এই প্রতারণার বিষয়টি জানানোর জন্য। অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে, কেউ যদি মনে করেন তার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে, তবে তাকে আমাদের কনজ্যুমার ফ্রড হেল্পলাইনে ৭১৮-২৮৬-৬৬৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাই।
৫০ বছর বয়সী কম্যাকের বাসিন্দা লিওনার্দো ফেরেত্তি—যিনি লিওনার্দো ভ্যালেন্তিনো ফেরেত্তি ডি সান্টোরেল্লি নামেও পরিচিত বুধবার আদালতে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির গ্র্যান্ড লারসেনি, তৃতীয় ডিগ্রির চুরি করা সম্পত্তি অবৈধভাবে রাখার অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া আইন পেশা পরিচালনা এবং প্রথম ডিগ্রির অভিবাসী সহায়তা সেবা প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক টোকো সেরিটা তাকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২ বছর ৪ মাস থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ক্যাটজ জানান, অভিযোগপত্র ও তদন্ত অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ফেরেত্তি একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করেন। একাধিকবার সরাসরি দেখা করার পরও তারা নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চালিয়ে যান।
ফেরেত্তি ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি কলম্বিয়া ল স্কুলে পড়ছেন এবং ২০২৩ সালে বার পরীক্ষায় বসবেন। পরে তিনি একটি বিজনেস কার্ডের ছবি পাঠান, যেখানে নিজেকে “জুরিস ডক্টর ক্যান্ডিডেট, ক্লাস অব ২০২২, কলম্বিয়া ল স্কুল ইন দ্য সিটি অব নিউ ইয়র্ক” হিসেবে উল্লেখ করেন। কার্ডে তার মোবাইল নম্বর ও law.columbia.edu ডোমেইনের একটি ইমেইল ঠিকানাও ছিল। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে কেউ আইনি সহায়তা চাইলে যোগাযোগের জন্য তিনি কার্ডটি দিচ্ছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ভুক্তভোগীকে মেসেজ দিয়ে জানান যে তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি সেবা দেওয়ার বিনিময়ে ১৫ হাজার ডলার নেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মত হন। এককালীন টাকা দিতে না পারায় কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা হয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি কথিত অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য আরও ৩০০ ডলার চান।
২০২৩ সালের ৫ জুন থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভুক্তভোগী জেল (Zelle) এর মাধ্যমে ১৬ দফায় মোট ১১,৮০০ ডলার পাঠান। একই বছরের জুলাইয়ে ভুক্তভোগীর ভাই তার বোনের দেনা পরিশোধে সহায়তা করতে জেলের মাধ্যমে আরও ৩,৫০০ ডলার পাঠান। মোট ১৭টি লেনদেনে দুইটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫,৩০০ ডলার জমা হয়।
২০২৪ সালের ২০ মে’র দিকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ফেরেত্তির শেষ যোগাযোগ হয়। এরপর তিনি আর কোনো বার্তার উত্তর দেননি।
তদন্তে জানা যায়, কলম্বিয়া ল স্কুলে 'লিওনার্দো ফেরেত্তি' নামে কোনো ছাত্র কখনো ভর্তি ছিল না এবং তিনি কখনোই বার-এ ভর্তি হননি। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো অভিবাসন আবেদনও জমা পড়েনি।
গত ২১ জানুয়ারি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির ডিটেকটিভ ব্যুরোর সদস্যরা ফেরেত্তিকে গ্রেপ্তার করেন।
ডিটেকটিভ ইলিয়াস চাকনের নেতৃত্বে, ডিটেকটিভ কেনি চিন ও রবার্ট লির সহায়তায় তদন্ত পরিচালিত হয়। সার্জেন্ট ডেভিড জোগলার ও লেফটেন্যান্ট উইলিয়াম আবাতাঞ্জেলোর তত্ত্বাবধানে এই তদন্ত হয়। ফ্রডস ব্যুরোর ট্রায়াল প্রেপ সহকারী মেগান ওগ্রডনিকও এতে সহায়তা করেন।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির ফ্রডস ব্যুরোর সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জোশুয়া ট্রাখটেনবার্গ মামলাটি পরিচালনা করছেন। তার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ব্যুরো চিফ জোসেফ টি. কনলি তৃতীয়, ডেপুটি ব্যুরো চিফ হানা সি. কিম এবং তদন্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি শন ক্লার্ক।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি