মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড প্রতারণা
নিউ ইয়র্কে ১২০ মিলিয়ন ডলারের অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার ও ফার্মেসি জালিয়াতিতে কুইন্সের দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত
মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড প্রতারণা
আবু সাবেত: নিউ ইয়র্কের কুইন্সের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ কিকব্যাক ও ঘুষ দিয়ে এবং বাস্তবে দেওয়া হয়নি এমন সেবার জন্য ভুয়া দাবি জমা দিয়ে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডকে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার ব্রুকলিনে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, আসামিরা নাকি সিনিয়র নাগরিকদের সহায়তার জন্য তৈরি একটি ফার্মেসি ও সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক ডে কেয়ার কেন্দ্রকে ১২০ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড জালিয়াতির চক্রে পরিণত করেছিল। আজকের অভিযোগপত্র তাদের লক্ষ্য করেছে, যারা দুর্বল মানুষদের শিকার করে মার্কিন করদাতাদের টাকা চুরি করে এবং জনস্বার্থে তৈরি সরকারি কর্মসূচিগুলোকে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউ ইয়র্কের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, আজ অভিযুক্ত আসামিরা অবৈধ নগদ অর্থ দিয়ে বয়স্কদের তাদের ব্যবসায় আকৃষ্ট করে ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মসূচি থেকে ১২০ মিলিয়ন ডলার চুরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ আমাদের দপ্তরের সেই অঙ্গীকারের অংশ ফেডারেল কর্মসূচি রক্ষা করা এবং যারা সেগুলো থেকে চুরি করে তাদের বিচারের আওতায় আনা।
এইচএইচএস-ওআইজি’র ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল স্কট জে. ল্যামপার্ট বলেন,ফার্মেসি ও সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলো সিনিয়রদের সেবা দেওয়ার জন্য করদাতাদের অর্থ লুটে নেওয়ার বা প্রতারণার ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয়। এমন জালিয়াতি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করে।
এফবিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক গ্রেগরি হিব বলেন, মেডিকেয়ারের মতো কর্মসূচিতে প্রতারণা করা মানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকা মানুষদের ক্ষতি করা। আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে এসব অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনব।
আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের নিউইয়র্ক শাখার বিশেষ এজেন্ট হ্যারি টি. চ্যাভিস জুনিয়র বলেন,ডে কেয়ার কেন্দ্রকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে তারা ঘুষ, কিকব্যাক ও প্রতারণার মাধ্যমে ১২০ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ফ্লাশিংয়ের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী ইনউ কিম (ওরফে টনি কিম/লং জিন) একটি ফার্মেসি ও দুটি সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক ডে কেয়ার কেন্দ্রের মালিক ছিলেন। ৫৬ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লি (ওরফে ড্যানিয়েল ইয়াং/ডংহি ইয়াং) ছিলেন হ্যাপি লাইফ ডে কেয়ারের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তারা মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের নগদ টাকা ও গিফট কার্ড দিয়ে অবৈধভাবে আকৃষ্ট করতেন।
তারা আরও অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদিত সীমার বেশি লোক দেখিয়ে ভুয়া সেবার বিল জমা দিতেন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ তুলে ঘুষ দিতেন। মোট প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার অপ্রয়োজনীয়, না দেওয়া বা ঘুষের মাধ্যমে আদায় করা সেবার জন্য পরিশোধ করা হয়।
কিম ও লির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এই মামলার তদন্ত করছে এইচএইচএস-ওআইজি, এফবিআই, আইআরএস-সিআই এবং নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের দপ্তর।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি