২২ জুন ২০২৬

এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে

নিউ ইয়র্কের মেয়র প্রাসাদে উঠলেন জোহরান মামদানি ও তাঁর স্ত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
নিউ ইয়র্কের মেয়র প্রাসাদে উঠলেন জোহরান মামদানি ও তাঁর স্ত্রী

নোমান সাবিত: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ও তাঁর স্ত্রী রামা দুয়াজি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের সরকারি বাসভবনে ওঠা শুরু করেছেন। কুইন্সের তাঁদের ছোট, পানি চুঁইয়ে পড়া এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে এবার তাঁরা উঠছেন ম্যানহাটনের সম্পূর্ণ কর্মীবহুল ঐতিহাসিক প্রাসাদে।

গাছগাছালি ভর্তি কার্টন ও গুটানো কার্পেট নামানোর সময় মামদানি নতুন বাসভবনের নদীতীরবর্তী লনে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

মামদানি বলেন,আজ রামা ও আমি নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি কারণ নিউ ইয়র্কবাসীর জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে যে অভিজ্ঞতা হয়, আমরা সেটির অংশ হচ্ছি: জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করা, শহরের অন্য অংশে নতুন ঘর বানানো।

১৯৪২ সাল থেকে প্রায় সব নিউ ইয়র্ক মেয়রই কখনো না কখনো এই আঠারো শতকের রাজকীয় ভবন গ্রেসি ম্যানশন-এ থেকেছেন।

মামদানির ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনটি বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। এতদিন তিনি থাকতেন মাসে ২হাজার ৩০০ ডলার ভাড়ার একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে, যেখানে ওয়াশার-ড্রায়ার ছিল না এবং পাইপ ফেটে প্রায়ই পানি ঢুকত।

অন্যদিকে নতুন বাসভবনটি প্রায় ১১ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এতে রয়েছে ব্যক্তিগত রাঁধুনি, অলঙ্কৃত বলরুম, ইস্ট রিভারমুখী বারান্দা এবং সেই ঐতিহাসিক ফায়ারপ্লেস, যেখানে দ্বন্দ্বযুদ্ধের পর আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের দাবি অনুযায়ী, বাড়িটিতে অন্তত একটি 'ভূত' ও রয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি বলেন, এই স্থানান্তর তাঁর 'জনগণের মতো সরকার' গড়ার অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হতে পারে এটা তিনি বোঝেন। তবে নিরাপত্তার প্রয়োজনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

গ্রেসি ম্যানশনে স্থায়ী হওয়ার পর তিনি ভবনটি সাধারণ নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য আরও উন্মুক্ত করে দিতে চান। এমনকি বাথরুমে ‘বিডে’ বসানোর কথাও বলেন তিনি।

শৈশবের বড় অংশ মামদানি কাটিয়েছেন সেন্ট্রাল পার্কের ওপারে, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ভর্তুকিপ্রাপ্ত একটি অ্যাপার্টমেন্টে। পরে রাজ্য আইনসভায় থাকাকালে তিনি কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ায় বসবাস করতেন যা বামপন্থী রাজনীতির জন্য পরিচিত।

অ্যাস্টোরিয়া ছাড়ার আগে মামদানি বলেন, তিনি সেখানে 'অসংখ্য আদেনি চা, স্প্যানিশ-আরবি-সহ নানা ভাষার প্রাণবন্ত কথোপকথন, আর সামুদ্রিক খাবার ও শাওয়ারমার গন্ধ' মিস করবেন।

তার নতুন এলাকা আপার ইস্ট সাইড শহরের অন্যতম ধনী ও তুলনামূলকভাবে কম বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। যেখানে মামদানি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতেছিলেন তাঁর পুরোনো এলাকায়, সেখানে আপার ইস্ট সাইডে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমো এগিয়ে ছিলেন।

গ্রেসি ম্যানশনের পাশের পার্কে কুকুর হাঁটাতে হাঁটাতে স্থানীয় বাসিন্দা জো কুডি বলেন, তিনি আশা করেন নতুন মেয়র এলাকাটির শান্ত সৌন্দর্য উপভোগ করবেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমরাও ধীরে ধীরে তাঁকে আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে আপন করে নেব।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি