৪ মে ২০২৬

পাশেই দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছিল লোকজন

নিউ ইয়র্কের কুইন্সের বাস্কেটবল কোর্টে গুলিতে কিশোর নিহত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
নিউ ইয়র্কের কুইন্সের বাস্কেটবল কোর্টে গুলিতে কিশোর নিহত

কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বন্দুকধারীকে খুঁজছে পুলিশ

ইমা এলিস: নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বন্দুকধারীকে খুঁজছে পুলিশ। নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেডেন পিয়ের নামের ওই কিশোরকে কুইন্সের রয় উইলকিন্স পার্ক-এর একটি বাস্কেটবল কোর্টে কয়েকজন কিশোর ঘিরে ধরে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১৫ মিনিটে সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে এবং গুলি তার বুকে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে পরে তার মৃত্যু হয়।
যেখানে কিশোররা বাস্কেটবল খেলতে জড়ো হয়েছিল সেই জনসমাগমপূর্ণ পার্কেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিউ ইয়র্ক সিটি ইতোমধ্যে কিশোরদের সহিংসতা এবং সামাজিক মাধ্যমে ধারণকৃত সহিংস ঘটনার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী সিবিএস নিউজকে বলেন, আমি এখানে আসছিলাম, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে আসি সবাই ঠিক আছে কিনা দেখার জন্য, বিশেষ করে আমার বন্ধুদের। এসে দেখি এক কিশোর মাটিতে পড়ে আছে। আমি তাকে চিনি সে এখানে বাস্কেটবল খেলতে আসত। ভালো খেলোয়াড় ছিল, ভদ্র ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির আগে পিয়েরকে ঘিরে ধরে তাকে বারবার ঘুষি মারা হচ্ছিল। এরপর মুহূর্তেই ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
শনিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একজনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, 'অর্থহীন বন্দুক সহিংসতায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে হারিয়ে আজ আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। তার পরিবার, প্রিয়জন ও কমিউনিটির জন্য আমি প্রার্থনা করছি। নিউইয়র্কে বন্দুক সহিংসতা বন্ধে আমি প্রতিদিন কাজ চালিয়ে যাব।
এদিকে, প্রজেক্ট এইচ.ও.ও.ডি.-এর প্রতিষ্ঠাতা পাস্টর কোরি ব্রুকস এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, তার “হৃদয় ভেঙে গেছে।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপস্থিত লোকজন সহায়তা করার পরিবর্তে হামলার ভিডিও ধারণ করছিল।
তিনি বলেন, একজন ১৫ বছর বয়সী শিশুকে তাড়া করে, মারধর করে, নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে একটি খেলাধুলার মাঠে, যেখানে হাসি থাকার কথা, মৃত্যুদণ্ড নয়।'
তিনি আরও বলেন, লোকজন সাহায্যের জন্য দৌড়ায়নি। তারা ফোন বের করে প্রতিটি নৃশংস মুহূর্ত ধারণ করেছে, যেন এটি কোনো বিনোদন। সেই ভিডিও শুধু একটি হত্যাকাণ্ডই দেখায় না এটি এমন এক প্রজন্মকে উন্মোচিত করে, যাদের বিবেক নৈতিক অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি