নির্দোষ দাবি, জামিনও চাননি
নিউ ইয়র্কের আদালতে মাদক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ অস্বীকার মাদুরোর
ছাবেদ সাথী: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস সোমবার সকালে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগে নির্দোষ দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সপ্তাহান্তে কারাকাস থেকে আটক হওয়ার পর এটিই ছিল তাঁদের প্রথম প্রকাশ্য আদালত হাজিরা।
বিচারক যখন মাদুরোর কাছে তাঁর বক্তব্য জানতে চান, তখন দোভাষীর মাধ্যমে তিনি বলেন, 'আমি নির্দোষ। আমি দোষী নই। আমি আমার দেশের একজন সৎ প্রেসিডেন্ট।' এ সময় বিচারক হস্তক্ষেপ করে বলেন, 'মিস্টার মাদুরোর পক্ষ থেকে ‘দোষী নন’—এই বক্তব্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে।'
স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও দোভাষীর মাধ্যমে বলেন, 'দোষী নই। সম্পূর্ণ নির্দোষ।'
মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক ফেডারেল অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক–সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। দু’জনের বিরুদ্ধেই কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং এসব অস্ত্র রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে যা শনিবার প্রকাশ করা হয় মাদুরো, তাঁর স্ত্রী, তাঁদের এক পুত্রসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলার শীর্ষ নেতৃত্ব 'জনস্বার্থে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং একসময়ের বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার করেছে।'
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মাদুরো; তিনি তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে মিলে অবৈধভাবে অর্জিত ক্ষমতা ও তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষয় করেছেন, সেগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাঠিয়েছেন।
দুপুরের ব্যস্ত শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন দম্পতিকে অভিযোগের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান এবং তাঁদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপরই তাঁরা নির্দোষের আবেদন জানান।
এই আদালত হাজিরার মধ্য দিয়ে এমন একটি মামলার সূচনা হলো, যা শেষ পর্যন্ত মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদুরো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নজরে। ২০২০ সালে ম্যানহাটনের ফেডারেল কৌঁসুলিরা প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়, যেখানে তাঁকে মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্ক ‘কার্টেল দে লস সোলেস’-এর শীর্ষ নেতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।
এর আগে, ২০১৫ সালে ফ্লোরেসের দুই ভাগ্নেকে হাইতিতে গ্রেপ্তার করে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় যে দপ্তর বর্তমানে মাদুরোর মামলাটিও পরিচালনা করছে।
শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে বড় পরিসরের অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, “নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণ” ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে 'পরিচালনা করবে।' তবে এই পরিকল্পনা কীভাবে ও কতদিন বাস্তবায়িত হবে সে বিষয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি