১০ আগস্ট ২০২৬

নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে কর্মরত অবৈধ অভিবাসীকর্মী গ্রেপ্তার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২০ পিএম
নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে কর্মরত অবৈধ অভিবাসীকর্মী গ্রেপ্তার

আবু সাবেত: নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর গ্রেপ্তার হওয়া এক সিটি কাউন্সিল কর্মীর পটভূমি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি একজন অবৈধ অভিবাসী এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে।

ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম রাফায়েল আন্দ্রেস রুবিও বোহোরকেজ (৫৩)। তিনি ভেনেজুয়েলার নাগরিক এবং 'অপরাধী অবৈধ অভিবাসী।' সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরের সিটি কাউন্সিলে কর্মরত থাকলেও তাঁর কোনো বৈধ কর্মঅনুমতি ছিল না এবং তিনি অবৈধভাবে সেখানে চাকরি করছিলেন।

ডিএইচএস আরও জানায়, নিউ ইয়র্কে হামলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগেও গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। রুবিও বোহোরকেজ ২০১৭ সালে বি-২ (পর্যটক) ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, যা অনুযায়ী ওই বছরই তাঁর দেশ ছাড়ার কথা ছিল।

ডিএইচএসের সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, 'কোনো অনুমতি ছাড়া একজন ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী’ নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে চাকরি করছেন এটা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি বলেন, এটা ‘স্যান্কচুয়ারি সিটি’ ধারণাকে এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এই অপরাধী অবৈধ অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো অধিকার নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের রেকর্ড আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সেক্রেটারি নোয়েমের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র আর অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়।

সোমবার মামদানি ও শহরের অন্যান্য নেতারা ওই কর্মীর মুক্তির দাবি জানান।

এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে মামদানি লেখেন, নাসাউ কাউন্টিতে একটি নিয়মিত ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এক কর্মীকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আটক করেছে এটা শুনে আমি ক্ষুব্ধ। তিনি এই গ্রেপ্তারকে 'আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের শহর এবং আমাদের মূল্যবোধের ওপর আঘাত' বলে উল্লেখ করে তাঁর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।

নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিনও সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মীর মুক্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, ওই কর্মীকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ডিএইচএস বলছে, তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো বৈধ অনুমতিই নেই।

সংবাদ সম্মেলনে মেনিন বলেন, ডিএইচএস নিশ্চিত করেছে, তিনি নিয়মিত আদালতের একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই তাঁকে আটক করা হয়। আটক করার অন্য কোনো ভিত্তি তারা দেয়নি, বরং তিনি ছিলেন একজন সিটি কাউন্সিল কর্মী, যিনি সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই করছিলেন। আদালতে যেতে বলা হলে তিনি গিয়েছিলেন।

মেনিন জানান, ওই কর্মী ডেটা অ্যানালিস্ট হিসেবে প্রায় এক বছর ধরে কাজ করছিলেন।

সোমবার পরে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসও তাঁর মুক্তির দাবিতে সমর্থন জানান। তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জেমস বলেন, আমরা আমাদের শহর, এর সরকারি কর্মচারী এবং বাসিন্দাদের ওপর আক্রমণ মেনে নেব না।

ফক্স নিউজ ডিজিটাল মামদানি ও নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের কাছেও মন্তব্য চেয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি