আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নারীর মৃত্যু
মিনিয়াপোলিসে ঘটনা তদন্ত করতে চাওয়া এফবিআই এজেন্টের পদত্যাগ
ইমা এলিস: মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে একজন ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া এক এফবিআই এজেন্ট পদত্যাগ করেছেন বলে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের এফবিআই এজেন্ট ট্রেসি মার্গেন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তা জোনাথন রসের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে গিয়ে চাপের মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে এফবিআই এক বিবৃতিতে দ্য হিল-কে জানায়, এফবিআইয়ের নীতি অনুযায়ী, আমরা জনবল-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করি না।
মার্গেনের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, রেনি গুডের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত চালানোর কোনো ভিত্তি তারা দেখছে না।
গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসের একটি আবাসিক এলাকায় আইসিইর অভিযানের সময় নিজের এসইউভি গাড়িতে থাকা অবস্থায় রেনি গুড গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। বেসরকারি ময়নাতদন্তে জানা যায়, তার বাম বাহু, ডান স্তন ও মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল এবং আরেকটি গুলি তার শরীর ছুঁয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা গুলির ঘটনাকে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং দাবি করেন, গুড তার গাড়িটিকে 'ঘরোয়া সন্ত্রাসের' উদ্দেশ্যে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
তবে ডেমোক্র্যাটরা এই বক্তব্য তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনেন এবং একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান।
ফেডারেল তদন্তকারীরা শুরুতে যৌথ তদন্তের ইঙ্গিত দিলেও পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং মামলার নথি ও প্রমাণে তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেন। এর জেরে মিনেসোটা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশনের সুপারিনটেনডেন্ট ড্রু ইভানস ৮ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে জানান, তার সংস্থা 'অনিচ্ছাসত্ত্বেও' তদন্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
এর এক সপ্তাহেরও কম সময় পর নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, রেনি গুডের স্বামীকে তদন্তের আওতায় আনার বিচার বিভাগের উদ্যোগের প্রতিবাদে মিনেসোটার ছয়জন ফেডারেল কৌঁসুলি পদত্যাগ করেছেন।
ফেডারেল কর্মকর্তারা এখনো আইসিই কর্মকর্তা রসের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছেন। হোয়াইট হাউসের সীমান্ত বিষয়ক উপদেষ্টা টম হোম্যান জানান, রস বর্তমানে 'আত্মগোপনে' রয়েছেন।
ঘটনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেন, রস “সম্পূর্ণ দায়মুক্তি” পেতে পারেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম রোববার নিশ্চিত করেছেন, রসের কর্মকাণ্ড নিয়ে ডিএইচএস অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর তাকে তিন দিনের প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে বিচার বিভাগ মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রেকে সমন জারি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একটি অভিবাসন প্রয়োগসংক্রান্ত তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
গভর্নর ওয়ালজ এই সমনকে “দলীয় বিভ্রান্তি” বলে অভিহিত করেছেন। আর মেয়র ফ্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা ক্ষমতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে 'নিজ নিজ দায়িত্ব পালনকারী স্থানীয় নেতাদের ভয় দেখাতে' চাইছে।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি