৪ মে ২০২৬

মার্কিন চাপের মাঝেও ইরানে বিপ্লব দিবসের উচ্ছ্বাস

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
মার্কিন চাপের মাঝেও ইরানে বিপ্লব দিবসের উচ্ছ্বাস

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   ইসলামিক বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইরানজুড়ে ব্যাপক শোভাযাত্রা ও বিশাল বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বার্ষিক '২২ বাহমান' উদযাপনে রাজধানী তেহরানসহ সারাদেশের ১ হাজার ৪ শতাধিক শহরে সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। খবর আলমায়েদিন।

তেহরানে ভোর থেকেই নাগরিকরা ইরানি পতাকা ও ব্যানার নিয়ে আজাদি স্কয়ারে সমবেত হতে থাকেন, যা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও বন্দর আব্বাস, হামেদান, বুশেহর, খার্গ দ্বীপ, শিরাজ এবং তাবরিজসহ বিভিন্ন শহরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হয়।

দেশটির রাজধানীর মিছিলগুলোতে ইরানি পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পতাকাও উড়াতে দেখা গেছে, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তেহরানের দীর্ঘদিনের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই বার্ষিকীকে বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রদর্শনী হিসেবে তুলে ধরেছে।

গণসমাবেশে যোগ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

রাজধানীর এ কর্মসূচিতে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। তেহরানের সমাবেশে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তথা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল সৈয়দ আবদুর রহিম মোসাভি উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি রাজনৈতিক ও সামরিক সংহতি এবং স্থিতিস্থাপকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

আজাদি স্কয়ারে এ বছরের মূল বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, যা দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সরাসরি কাভার করা হয়।

এবারের আয়োজনে সামরিক প্রতীকগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। তেহরানের সমাবেশস্থলে কাসেম সোলাইমানি, ফাতেহ এবং ফাত্তাহ-১১০ সহ বিভিন্ন মডেলের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়। 

এছাড়া সাম্প্রতিক ১২ দিনের মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ভূপাতিত হওয়া ইসরায়েলি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষও আজাদি স্কয়ারে প্রদর্শন করা হয়েছে। মিছিলের কিছু অংশে মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের প্রতীকী কফিনও দেখা যায়।

কিছু অংশগ্রহণকারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবিতে পা দিয়ে মাড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

তেহরানের আজাদি স্কয়ারে মিছিলকারীরা ইসরায়েলি ও মার্কিন পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেন—যা মার্কিন আধিপত্য ও ইসরায়েলি নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের প্রতিফলন হিসেবে বার্ষিক অনুষ্ঠানগুলোর একটি নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি