নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচন
মামদানির জয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ‘তীব্র সংঘাতপূর্ণ’
ছাবেদ সাথী: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে অপছন্দ এতটাই তীব্র যে তিনি প্রকাশ্যে নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন গভর্নর ও দীর্ঘদিনের ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যান্ড্রু কুয়মোকে সমর্থন জানান শুধু মামদানিকে হারানোর আশায়।
অন্যদিকে মামদানি মঙ্গলবার রাতে তার জয়োৎসবে ট্রাম্পের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করতেও দ্বিধা করেননি। বজ্রধ্বনির মতো সমর্থকদের সামনে তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমি জানি তুমি দেখছো তোমার জন্য আমার চারটি শব্দ: আওয়াজটা আরও বাড়াও।'
নিউ ইয়র্কের দুই বাসিন্দা ট্রাম্প ও মামদানি উভয়েই নিজেদের প্রচারণা গড়েছিলেন ‘ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই’য়ের অঙ্গীকারে, কিন্তু তাদের লক্ষ্য একেবারেই ভিন্ন। মামদানির বিজয়ের পর দুইজনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন আরও তীব্র সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
নিউ ইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও কৌশলবিদ বাসিল স্মাইকেলবলেন, এই সম্পর্ক হবে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ । এটিই আসলে সবচেয়ে মৃদুভাবে বলা।
এক সূত্র জানিয়েছে, মামদানির জয়ের পর ট্রাম্প তাকে ফোন করেননি।
মামদানি জেতার আগেই ট্রাম্প ৩৪ বছর বয়সী এই স্বঘোষিত ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’র বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শুরু করেন। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলোতে, যখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল মামদানি মেয়র নির্বাচনে এগিয়ে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যদি মামদানি জেতেন, তবে ফেডারেল তহবিল আটকে দেওয়া হতে পারে।
রবিবার সিবিএসের '৬০ মিনিটস' অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যদি নিউ ইয়র্কে একজন কমিউনিস্ট মেয়র হয়, তাহলে সেখানে পাঠানো অর্থ মানে হলো অপচয়।' (মামদানিকে তিনি মিথ্যাভাবে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দেন)।
ট্রাম্প নিউ ইয়র্কে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন। তবে মামদানি বুধবার এবিসি’র 'গুড মর্নিং আমেরিকা' অনুষ্ঠানে বলেন, তিনি এসব হুমকিতে ভীত নন।
মামদানি বলেন, এই হুমকি অনিবার্য। এর সঙ্গে নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই এটি সম্পূর্ণ ভয় দেখানোর জন্য।
তিনি আরও যোগ করেন, যদি সত্যিই নিরাপত্তার ব্যাপার হতো, তাহলে ট্রাম্প আমেরিকার অপরাধের শীর্ষ ১০ রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড পাঠাতেন যার মধ্যে আটটি রিপাবলিকান শাসিত। কিন্তু তিনি তা করবেন না, কারণ ওগুলো তার দলের।
ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদ অ্যান্থনি কোলি বলেন, দুইজনের মধ্যে সংঘর্ষ 'খুবই কদর্য পর্যায়ে' পৌঁছাবে।
কোলি বলেন, ট্রাম্প নিশ্চয়ই নিউ ইয়র্কের তহবিল আটকে মামদানিকে শাস্তি দিতে চাইবেন, কিন্তু তাঁকে সতর্ক থাকতে হবে মামদানি জানেন কীভাবে তরুণ ভোটারদের সংগঠিত করতে হয়, যারা গত বছর ট্রাম্পের নিজের জোটেরও অংশ ছিল।
বুধবার ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই মামদানির দৃঢ় অবস্থানকে প্রশংসা করেন, যদিও কেউ কেউ সতর্ক করেন যে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে।
কৌশলবিদ জোয়েল পেইন বলেন, প্রধান প্রশ্ন হলো, মেয়র হিসেবে মামদানি তার মেয়াদকাল কতটা ট্রাম্পের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যয় করতে চান?
তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে এটি তার জন্য ভালো রাজনীতি হতে পারে, কিন্তু যদি বিষয়টি কেবল ‘কে কার চেয়ে বেশি কঠোর’ ধরনের ঝগড়ায় পরিণত হয়, তবে তা মামদানির জন্য ক্ষতিকর।'
পেইন আরও বলেন, যদি তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাতে নামেন, সেটি হওয়া উচিত তাঁর প্রচারণার অঙ্গীকারগুলোর ওপর যেমন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও বাসস্থান সাশ্রয়ী করা।
মামদানি এনবিসি নিউজকে বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কের জনগণের স্বার্থে ট্রাম্পের সঙ্গে 'যেকোনো সময়ে সংলাপ বা বৈঠকে' রাজি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনায় আমি প্রস্তুত। কিন্তু যদি ট্রাম্পের আলোচনা হয় নিউ ইয়র্কবাসীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা, আরও আইসিই এজেন্ট পাঠানো, শহরের স্কুল তহবিল স্থগিত করা বা ১৮ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থ বন্ধ করা নিয়ে তাহলে আমি তাতে কোনোভাবেই রাজি নই। আমি তার বিরুদ্ধে লড়ব।
নিউইয়র্কভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক সুসান ডেল পার্সিও বলেন, দুইজনের সম্পর্ক হবে 'অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ।'
তিনি বলেন, পাবলিকভাবে ট্রাম্প অন্যসব নীল শহরের মতোই এবারও খোলাখুলি আক্রমণ করবেন। তবে আসল কাজগুলো সম্ভবত পর্দার আড়ালেই সম্পন্ন হবে।
তবে কুয়মো সমর্থক এবং তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল নিউ ইয়র্কবাসীর বিরোধিতা মোকাবিলাও মামদানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে, যা ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে।
স্মাইকেল বলেন, সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো, কুয়মো সমর্থকদের সামলানো, যারা স্থানীয় পর্যায়ে ট্রাম্পের ভাষা অনুকরণ করতে পারে—এতে মামদানির রাজনৈতিক পুঁজি ক্ষয় হতে পারে।
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প ও মামদানি দুজনই একে অপরকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের সমর্থকদের একত্রিত করছেন।
মঙ্গলবার রাতে বিজয়োৎসবে মামদানি বলেন, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা প্রতারিত একটি দেশকে দেখানো যায় কিভাবে তাকে হারানো যায়, তবে সেটা কেবল সেই শহরই পারে, যেখান থেকে সে উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, একজন স্বৈরশাসককে ভয় দেখানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সেই সব শর্ত ভেঙে দেওয়া, যা তাকে ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করেছিল। এভাবেই আমরা ট্রাম্পকে থামাব, এভাবেই আমরা পরের জনকেও থামাব।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব দেখাতে চান মেয়র মামদানি
সঙ্গীত একাডেমি