নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচন
কুয়োমোর ইসলামবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ মামদানির
ইমা এলিস: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের প্রাক্কালে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি স্বাধীনপ্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমোর বিরুদ্ধে 'ইসলামবিরোধী বক্তব্য' দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগ ওঠে বৃহস্পতিবার, যখন সাবেক গভর্নর কুয়োমো একটি রেডিও শোতে যোগ দেন, যেখানে উপস্থাপক বলেন যদি নিউ ইয়র্ক সিটিতে আবার ৯/১১-এর মতো হামলা ঘটে, তাহলে মামদানি সম্ভবত 'উল্লাস করবেন।'
শুক্রবার বিকেলে ব্রঙ্কসের ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের বাইরে দাঁড়িয়ে মামদানি এই বিতর্ককে 'ইসলামোফোবিক বক্তব্য ও ভয়-প্রচারনের নবতর ঢেউ' হিসেবে আখ্যায়িত করে নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই নির্বাচনে ঘৃণাকে সামনে এনেছেন। কিন্তু এটি কেবল এক ঝলক যা শহরজুড়ে প্রতিদিন অনেকেই সহ্য করেন। অনেক সময় আমরা বলি, এটাই তো আমাদের শহর নয়। কিন্তু সত্য হচ্ছে, আমরা নিজেরাই নিজেদের এমন করে তুলেছি।
রেডিও সাক্ষাৎকারে কুয়োমো বলেন, যদি ঈশ্বর না করেন, আবার ৯/১১-এর মতো কোনো হামলা হয়, ভাবুন তো, তখন মামদানি দায়িত্বে থাকলে কী হতো?
বৃহস্পতিবার ডব্লিউএবিসির 'সকালে সিড এবং বন্ধুরা' অনুষ্ঠানে কুয়োমো প্রশ্ন তোলেন মামদানি নির্বাচিত হলে কোনো সঙ্কট পরিস্থিতিতে শহরকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না। উপস্থাপক যখন ইঙ্গিত দেন যে মামদানি এমন হামলায় খুশি হবেন, তখন কুয়োমো বলেন, 'এটাই আরেকটি সমস্যা,' তারপর আবার জিজ্ঞেস করেন, 'ভাবা যায় এমনটা?
সেই দিন বিকেলে ম্যানহাটনে এক নির্বাচনী সমাবেশে সাংবাদিকরা মামদানিকে জিজ্ঞেস করেন, কুয়োমোর মন্তব্যকে তিনি ইসলামোফোবিক বলে মনে করেন কি না।
মামদানি বলেন, হ্যাঁ, আমি মনে করি মন্তব্যগুলো ইসলামোফোবিক। আমরা এমন এক সাবেক গভর্নর সম্পর্কে কথা বলছি, যিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন ভাষা ব্যবহার করছেন, যা কেবল ইসলামবিরোধী ও বর্ণবাদী নয়, বরং জঘন্য।
এরপর একই দিন বিকেলে কুয়োমোকে সমর্থন জানান নিউ ইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস। তিনি বলেন, তাঁর সমর্থনের একটি কারণ 'নিউ ইয়র্কে ইসলামী উগ্রবাদ' মোকাবিলা করা।
অ্যাডামস বলেন, 'মানুষের কী হয়েছে জানি না। আপনি দেখছেন, ইসলামী উগ্রবাদ কীভাবে অন্য দেশগুলোতে গির্জা জ্বালাচ্ছে, জার্মানির সম্প্রদায়গুলো ধ্বংস করছে। মুসলিমদের কথা বলছি না, উগ্রবাদীদের কথা বলছি। এ কারণেই আমি লড়ছি।' মামদানির প্রচারণা দল অ্যাডামসের মন্তব্যকে “ইসলামবিরোধী যুক্তি' বলে আখ্যা দিয়েছে।
শুক্রবার মামদানি সাংবাদিকদের সামনে চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তাঁর খালাসহ অনেক মুসলিম নারী আর হিজাব পরে সাবওয়ে ধরতে সাহস পাননি, কারণ তারা নিরাপদ বোধ করতেন না।
তিনি বলেন, আমরা জানি, দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা বিদায় জানাব এক কলঙ্কিত সাবেক গভর্নর ও এক অভিযুক্ত বর্তমান মেয়রকে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো আমরা কি এই শহরে মুসলিমবিরোধী মনোভাবকেও বিদায় জানাতে প্রস্তুত?
মামদানি আরও বলেন, আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে কেউ ইসলামবিরোধী কথা বললে বুঝে ওঠা যায় না, সেটা রিপাবলিকান বলেছে নাকি ডেমোক্র্যাট। এখন ইসলামোফোবিয়া হয়ে উঠেছে শহরের রাজনীতির সাধারণ ভাষা।
নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মামদানি কুয়োমোর 'শেষ মুহূর্তের অপপ্রচার' হিসেবে মন্তব্যগুলোকে নিন্দা করেন।
তিনি বলেন, অ্যান্ড্রু কুয়োমো এই শহরের নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে থাকা প্রথম মুসলিম প্রার্থীকে অপমান করতে চান। তিনি এমন একটি শহরকে বলছেন, যেখানে প্রতি আটজনের একজন মুসলিম তাদের বিশ্বাসের কারণে তারা সন্দেহের যোগ্য।
সাংবাদিকদের চাপে কুয়োমো পরে ব্যাখ্যা দেন যে, মামদানি ৯/১১-এর মতো হামলা হলে উল্লাস করবেন এই কথাটি তিনি বলেননি, বরং অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বলেছিলেন।
কয়েক দিন আগে ৯/১১ হামলার ২৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুয়োমো সমালোচনা করেন যে, মামদানি ইউটিউব স্ট্রিমার হাসান পাইকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন, যিনি একবার বলেছিলেন 'আমেরিকা ৯/১১ প্রাপ্য ছিল।'
কুয়োমো বলেন, আমার সমস্যা হলো, মামদানি হাসান পাইকারের মতো লোকদের সঙ্গে মেলামেশা করেন।'
ফক্স নিউজ–এর সর্বশেষ জরিপে (১০–১৪ অক্টোবর) দেখা গেছে, মামদানি এখন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছেন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ মামদানিকে সমর্থন করছেন, কুয়োমোকে ২৮ শতাংশ, এবং স্লিওয়াকে ১৩ শতাংশ ভোট দিতে চান। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে মামদানির সমর্থন ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে।
যদি মামদানি ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হন, তবে তিনি হবেন নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র।
তবে ধর্ম এখন এই নির্বাচনের মূল বিতর্কে পরিণত হয়েছে। অনেক ইহুদি ভোটার মামদানির গাজা যুদ্ধকে 'গণহত্যা' আখ্যা দেওয়া এবং ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করার কারণে তাঁর অবস্থানের বিরোধিতা করছেন।
এই সপ্তাহে নিউ ইয়র্কের ৬৫০ জনেরও বেশি রাবাই 'ইহুদি ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাবাইনিক আহ্বান' নামে এক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে বলেন, ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য চলতে থাকলে তাঁরা নীরব থাকতে পারেন না।
টেম্পল ইমানু-এল–এর সিনিয়র রাবাই জোশুয়া এম. ডেভিডসন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, তাঁর মামদানিকে নিয়ে উদ্বেগ 'ইসলামোফোবিয়ার কারণে নয়।'
তিনি বলেন, এটি মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যৌক্তিক উদ্বেগ। নিউইয়র্ক বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় শহর, এবং মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হওয়া হবে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিন্তু মি. মামদানির অবস্থান অনেককে, বিশেষ করে ইহুদি সম্প্রদায়কে, গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কের ১০ বিলিয়ন ডলারের হোম কেয়ার জালিয়াতি ঠেকাতে বিচার বিভাগের মামলা
সঙ্গীত একাডেমি