জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে বুধবার শুনানি করবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
ট্রাম্প বনাম বারবারা মামলা
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কারা পাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বুধবার শুনানি
নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কারা পাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বুধবার শুনানি করতে যাচ্ছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্প বনাম বারবারা মামলাটি মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের এক নির্বাহী আদেশকে কেন্দ্র করে। ওই আদেশ অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হবে, যাদের বাবা-মা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বা অস্থায়ী বাসিন্দা।
মামলাটির কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী, যা গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুক্ত আফ্রিকান-আমেরিকানদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছিল। পরবর্তীতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যে সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন বা নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের বসবাসরত অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন' বাক্যাংশটির অর্থ কেবল দেশে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকা নয়।
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক ইলান উরম্যান বলেন, ইংরেজি কমন ল’-এর ভিত্তিতে যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন নথিপত্র গড়ে উঠেছে শুধু তাদেরই আইনি সুরক্ষা দেওয়ার কথা, যারা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দেশে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, অনুমতি থাকলেই সুরক্ষা পাওয়া যায়, আর সুরক্ষা থাকলেই অধিক্ষেত্রের আওতায় পড়া যায়। সন্তানদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সাধারণত বাবা-মায়ের মাধ্যমেই কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের আগের রায়গুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে, বিশেষ করে ১৮৯৮ সালের ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক মামলার রায়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, চীনা বংশোদ্ভূত বাবা-মায়ের সন্তান হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে সে নাগরিক হিসেবে গণ্য হতে পারে।
তবে ওই রায়ে তিনটি শ্রেণিকে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের বাইরে রাখা হয়, কূটনীতিকদের সন্তান, আক্রমণকারী বাহিনীর সন্তান এবং নেটিভ আমেরিকানদের সন্তান।
আইওয়া অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের সলিসিটর জেনারেল এরিক ওয়েসান বলেন, প্রশ্ন হলো এই তিনটি শ্রেণিই কি চূড়ান্ত, নাকি আরও কিছু শ্রেণি এর বাইরে থাকতে পারে?
অন্যদিকে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বজায় রাখার পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আইনি ঐতিহ্য এবং ওং কিম আর্ক মামলার রায়কে ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ভিন্ন ভিন্ন নীতি গ্রহণ করে, তবে তা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
তাদের ভাষায়, এটি দীর্ঘদিনের কার্যকর একটি নীতিকে ভেঙে দিয়ে অনিশ্চিত ও বিশৃঙ্খল একটি ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এ মামলার শুনানি গ্রহণ করবে এবং জুনের মধ্যে রায় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরিক ওয়েসান আরও বলেন, ১৪তম সংশোধনীটি জন্ম পর্যটন উৎসাহিত করা বা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশকারীদের পুরস্কৃত করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি বলে মনে হয়।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি