জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন চাকরি
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি
কৌশলী ইমা: ২০২৫ সালে কর্মসংস্থানের ধীরগতির পর গত মাসে কিছুটা উষ্ণতা ফিরে এসেছে নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে। শ্রম দপ্তরের বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগকর্তারা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি করেছেন। তবে বার্ষিক হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, গত বছরের নিয়োগ পরিস্থিতি প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক দুর্বল ছিল।
দেশের কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে এমন উদ্বেগের মধ্যেই এ প্রতিবেদন এসেছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব মিলিয়ে ১৭ হাজার কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।
প্রতি বছর একবার শ্রম দপ্তর বেকারত্ব কর সংক্রান্ত রেকর্ডের ভিত্তিতে চাকরির হিসাব আরও নির্ভুলভাবে হালনাগাদ করে। বুধবারের সংশোধিত তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের মার্চে অর্থনীতিতে প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৯ লাখ কম চাকরি ছিল, যা আগে গণনা করা হয়েছিল। গড় হিসেবে ২০২৫ সালে প্রতি মাসে নিয়োগ বেড়েছে মাত্র ১৫ হাজার।
ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর ক্রিস ওয়ালার এক বিবৃতিতে বলেন, এটি মোটেও একটি সুস্থ শ্রমবাজারের চিত্র নয়।
ওয়ালার গত মাসে সুদের হার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন, যাতে মন্থর শ্রমবাজারকে চাঙা করা যায়। তবে ফেডের অধিকাংশ নীতিনির্ধারক জানুয়ারিতে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দেন, যদিও গত বছর তিন দফা হার কমানো হয়েছিল।
স্বাস্থ্য ও নির্মাণ খাতে অগ্রগতি
জানুয়ারিতে স্বাস্থ্যসেবা ও নির্মাণ খাতে উল্লেখযোগ্য চাকরি বৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে গুদামজাত ও পরিবহন খাতে চাকরি কমেছে এবং ফেডারেল সরকারও কর্মীসংখ্যা হ্রাস অব্যাহত রেখেছে। উৎপাদন খাতে ৫ হাজার এবং আতিথেয়তা খাতে মাত্র ১ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে।
বেকারত্বের হার ৪.৪% থেকে কমে ৪.৩% হয়েছে—যা ঐতিহাসিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে কম। আফ্রিকান আমেরিকানদের মধ্যে বেকারত্বের হারও কমেছে, তবে এখনো ৭.২%–এ অবস্থান করছে।
গত বছরের চাকরি প্রবৃদ্ধির দুর্বলতার একটি কারণ হতে পারে শ্রমশক্তির প্রাপ্যতা কমে যাওয়া। ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্তে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের ব্যাপকভাবে বহিষ্কার করছে। একই সময়ে বহু ‘বেবি বুমার’ অবসর গ্রহণের কারণে কর্মক্ষেত্র ছাড়ছেন।
তবে ওয়ালার বলেন, এটিই একমাত্র কারণ নয়। তাঁর মতে, নিয়োগকর্তারা কর্মী ছাঁটাইয়ে অনিচ্ছুক, আবার নতুন নিয়োগেও দ্বিধাগ্রস্ত। এটি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয় এবং শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য অবনতির ঝুঁকি রয়েছে।
কয়েক বছর আগে প্রতি বেকার ব্যক্তির বিপরীতে দুটি করে চাকরির সুযোগ ছিল। ডিসেম্বর নাগাদ তা নেমে এসেছে একটিরও কমে। ফলে নিয়োগকর্তাদের কর্মী ধরে রাখতে বা আকর্ষণ করতে অতিরিক্ত মজুরি বাড়ানোর প্রয়োজন কমেছে। জানুয়ারিতে গড় মজুরি বার্ষিক হিসেবে ৩.৭% বেড়েছে, যা ডিসেম্বরের ৩.৮% বৃদ্ধির তুলনায় সামান্য কম।
সাধারণত মাসিক কর্মসংস্থানের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের প্রথম শুক্রবার প্রকাশিত হয়। তবে গত সপ্তাহের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে জানুয়ারির প্রতিবেদন কয়েক দিন বিলম্বিত হয়েছে।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি