৪ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

 

 

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি ভেঙে যায়, তবে দেশটির হরমুজ প্রণালির সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র সিএনএনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বিবেচনায় থাকা বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি বিশেষ দিক হলো, ইরানের ‘ডায়নামিক টার্গেট’ বা চলন্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানো।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করাই এ পরিকল্পনার লক্ষ্য। বিশেষ করে ইরানের ছোট দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান, মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম; যা ব্যবহার করে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এসব জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, সেগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ জলপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

মার্কিন বাহিনী আগে ইরানের নৌবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করলেও, প্রথম মাসের বোমাবর্ষণ ছিল মূলত হরমুজ প্রণালি থেকে দূরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে। উদ্দেশ্য ছিল, ইরানের মূল ভূখণ্ডের ভেতরে হামলার পথ তৈরি করা। তবে নতুন পরিকল্পনায় এই কৌশলগত জলপথের আশপাশে অনেক বেশি বোমাবর্ষণের কথা বলা হয়েছে।

সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত আছে। এছাড়া ইরানের অসংখ্য ছোট নৌযান রয়েছে, যা জাহাজে হামলা চালানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তবে একাধিক সূত্র এবং একজন জ্যেষ্ঠ শিপিং ব্রোকার সিএনএনকে জানিয়েছেন, শুধু হরমুজ প্রণালির আশপাশে হামলা চালিয়েই এ জলপথ তাৎক্ষণিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করবে। যদিও বর্তমান ও সাবেক অনেক মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, ইরানে আবারও হামলা চালানো হলে তা সংঘাতকে নতুন করে উসকে দেবে।

হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে আমরা ভবিষ্যৎ বা কাল্পনিক কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করি না। মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প দিয়ে যাচ্ছে এবং সব বিকল্পই এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগের দফায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং হাজার হাজার ড্রোন অক্ষত রয়ে গেছে।

গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে তাদের কিছু সামরিক সম্পদ নতুন জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান চুক্তিতে না এলে এসব স্থানেও হামলা চালানো হবে।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন এবং তিনি একটি কূটনৈতিক সমাধানই পছন্দ করবেন। তবে একই সঙ্গে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। নির্দেশ পাওয়ামাত্রই মার্কিন বাহিনী আবারও হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি