চিতার গতির রহস্য জানুন, কীভাবে নিজেকে গড়েছেন আশরাফ হাকিমি
হাকিমির ফিটনেসের রহস্য-এত ধরনের ব্যায়াম করেন যে নাম মনে রাখাও কঠিন
তরুণদের আইকন হয়ে ওঠা আশরাফ হাকিমির অতিমানবীয় গতি ও স্ট্যামিনার পেছনে আছে কঠোর পরিশ্রম, সুনির্দিষ্ট ব্যায়াম এবং নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাসছবি: রয়টার্স
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: মাঠে বল পায়ে আশরাফ হাকিমিকে ছুটতে দেখলে মনে হয়, যেন গতি তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ডান প্রান্ত দিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়া এই মরক্কান তারকার পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা কঠোর ফিটনেস রুটিন, বৈজ্ঞানিক অনুশীলন এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস।
ম্যাচের আগে শরীর প্রস্তুত করার বিশেষ রুটিন

যেকোনো ম্যাচ বা কঠিন অনুশীলনের আগে হাকিমি শরীর গরম করার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। হালকা জগিং, ডাইনামিক স্ট্রেচিং, লেগ সুইং, হিপ সার্কেল, হাই নিস এবং ওয়াকিং লাঞ্জের মতো ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে প্রস্তুত করেন। এরপর বল নিয়ে ড্রিবলিং, হার্ডল জাম্প ও হেডিং অনুশীলনের মাধ্যমে ম্যাচের জন্য নিজেকে তৈরি করেন।
গতির পেছনের বিজ্ঞান
হাকিমির সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর বিস্ফোরক গতি এবং মুহূর্তের মধ্যে দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা। এই দক্ষতা ধরে রাখতে তিনি নিয়মিত রিঅ্যাকশন ড্রিল, জিগজ্যাগ স্প্রিন্ট, ল্যাডার ড্রিল ও সিঙ্গেল-লেগ হপস অনুশীলন করেন। এসব ব্যায়াম তাঁর পায়ের দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল পেশিকে আরও কার্যকর করে তোলে।
জিমে চলে শক্তি বাড়ানোর লড়াই
মাঠের বাইরে জিমেও কঠোর পরিশ্রম করেন হাকিমি। বেঞ্চ প্রেস, স্কোয়াট, ডেডলিফট, লেগ প্রেস, শোল্ডার প্রেস, পুশ-আপ, বাইসেপ ও ট্রাইসেপ কার্লসহ বিভিন্ন ওয়েট ট্রেনিং তাঁর নিয়মিত রুটিনের অংশ।
শুধু তাই নয়, শরীরের ভারসাম্য ও কোর শক্তিশালী রাখতে তিনি ক্রাঞ্চ, সাইড প্ল্যাঙ্ক, ভি-আপ, রাশিয়ান টুইস্ট এবং বোসু বল ব্যবহার করে ব্যালান্স ট্রেনিংও করেন।
বক্সিংও তাঁর ফিটনেসের অংশ
অনেকের কাছেই অবাক লাগতে পারে, কিন্তু হাকিমির সাপ্তাহিক অনুশীলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বক্সিং। শ্যাডো বক্সিং, হেভি ব্যাগ ওয়ার্ক এবং স্পারিংয়ের মাধ্যমে তিনি স্ট্যামিনা, রিফ্লেক্স ও হাত-চোখের সমন্বয় আরও উন্নত করেন। এর ফলে পুরো ম্যাচজুড়ে উচ্চগতির ফুটবল খেলেও মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।
কী খান হাকিমি?
হাকিমির খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের জায়গা নেই বললেই চলে। সকালে ডিম, হোল-গ্রেইন টোস্ট ও ফল; দুপুরে ব্রাউন রাইস বা কিনোয়ার সঙ্গে গ্রিলড চিকেন বা মাছ এবং প্রচুর সবজি; রাতে চর্বিহীন প্রোটিন, মিষ্টি আলু বা হোল-গ্রেইন পাস্তার সঙ্গে সালাদ—এভাবেই সাজানো তাঁর প্রতিদিনের ডায়েট।

এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রিক ইয়োগার্ট, বাদাম, কটেজ চিজ, প্রোটিন স্মুদি এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী হুই প্রোটিন, ওমেগা–৩, মাল্টিভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও বিসিএএ সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করেন।
তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

হাকিমির মতে, সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন, সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি থেকে শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা রাইট-ব্যাক হয়ে ওঠার পেছনে এই দর্শনই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিপি/এসআর
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি