১১ আগস্ট ২০২৬

হাইড্রেশন ব্রেক চালু রাখার কথা ভাবছে ফিফা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
হাইড্রেশন ব্রেক চালু রাখার কথা ভাবছে ফিফা

বিশ্বকাপের ম্যাচের মাঝে হাইড্রেশন ব্রেক। এআই দিয়ে বানানো প্রতীকী ছবি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক (পানি পানের বিরতি) দিয়ে বিজ্ঞাপন থেকে বিপুল অর্থ আয় করেছে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই সুযোগ ধরে রাখতে ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপেও এই বিরতি বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছে ফিফা—এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ

বিশ্বকাপ ম্যাচের মাঝপথে তিন মিনিটের বিরতিকে মূলত ফুটবলারদের পানি পান ও শরীর ঠান্ডা রাখার সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। সেটিই এখন ফিফার জন্য হয়ে উঠেছে বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনার জায়গা।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বের নতুন চুক্তিতে প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের বিরতি রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে ফিফা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের বিশ্বকাপেও ম্যাচের মাঝপথে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খেলা থামবে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করেছিল। আবহাওয়া বা তাপমাত্রা যেমনই হোক, প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে এই বিরতি দেওয়ার নিয়ম ছিল। ফিফার ভাষ্য ছিল, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত।

কিন্তু এই বিরতি সম্প্রচারকারীদের জন্য তৈরি করেছে বিজ্ঞাপন দেখানোর আলাদা সুযোগ।

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পাওয়া ফক্স স্পোর্টস এই বিরতিতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আয় করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু এই তিন মিনিটের বিরতিকে ঘিরেই ফক্সের বিজ্ঞাপন আয় ২৫ কোটি ডলারের (৩ হাজার ৮৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা) কাছাকাছি হতে পারে। ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম ছিল প্রায় ২ লাখ (২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার (৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা) পর্যন্ত।

ফলে যে বিরতি শুরু হয়েছিল খেলোয়াড়দের স্বস্তির জন্য, সেটিই এখন সম্প্রচার ব্যবসার জন্য মূল্যবান বিজ্ঞাপনের সময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার প্রধান বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মকর্তা আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছিলেন, হাইড্রেশন ব্রেকের কারণে ম্যাচের ফল বা খেলার প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।

তবে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপে এই ব্যবস্থা থাকবে কি না, তখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে এখনকার নতুন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলছে, বাণিজ্যিক দিকটি ফিফার ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রচারস্বত্বের নতুন চুক্তির শর্ত হিসেবে হাইড্রেশন ব্রেক রাখলে সম্প্রচারকারীরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনের জন্য সময় ঠিক করার নিশ্চয়তা পাবে।

২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়েও এরই মধ্যে বড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারস্বত্বের বাজারে নেটফ্লিক্স, ডিজনি ও ইউটিউব আগ্রহ দেখিয়েছে। আমাজন ও অ্যাপলও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি বিশ্বকাপের জন্য সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫০ কোটি ডলার (১৮ হাজার ৫১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা) থেকে ২০০ কোটি ডলার (২৪ হাজার ৬৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকা) পর্যন্ত বাজেট ধরছে।

ফিফা এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারস্বত্ব একসঙ্গে বিক্রি করার কথাও ভাবছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই স্বত্বের দাম আরো বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, বিশ্বকাপ এখন শুধু মাঠের লড়াই নয়; বরং সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন ও বিপুল অর্থেরও প্রতিযোগিতা। আর সেই বাণিজ্যিক সমীকরণে ম্যাচের মাঝের তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা সেটিই বুঝিয়ে দিচ্ছে।  সূত্র: কালের কণ্ঠ

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি