এক বছরে এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন
ইমা এলিস: ট্রাম্প প্রশাসন এক বছরেরও কম সময়ে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি লেখেন,এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিকের ভিসা, যাদের বিরুদ্ধে হামলা, চুরি ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছে বা যারা এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা একটি রেকর্ড, যা ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউজউইক সোমবার সকালে পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অতিরিক্ত মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) বিষয়টি পররাষ্ট্র দপ্তরের ওপর ছেড়ে দেয়।
গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত লাখো অভিবাসীকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি তাঁর প্রশাসন বৈধ মর্যাদায় থাকা বা তা পেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব ডিএইচএসের হলেও ভিসা ইস্যুর প্রাথমিক দায়িত্ব পররাষ্ট্র দপ্তরের। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে ভিসা বাতিলের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে বহু অভিবাসী বৈধ মর্যাদা হারিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় পড়ে যান।
পররাষ্ট্র দপ্তর ফক্স নিউজকে জানিয়েছে, অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে ব্যবসা বা পর্যটন ভিসায় এসে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থানকারীদের। এছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা, চুরি, শিশু নির্যাতন ও জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক রাখার ও বিতরণের অভিযোগে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হয়েছে।
২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের সংখ্যা এক লাখ ছাড়ানোয় এটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তুলনায় ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রায় ৪০ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সরকারি অভিবাসন পরিসংখ্যান সহজলভ্য না হওয়ায়, ভিসা হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ফেডারেল সরকারের ভিসা বাতিলের ব্যাপক আইনগত ক্ষমতা বহু বছর ধরেই রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে—যেসব ঘটনায় আগে হয়তো বিদেশি নাগরিকরা তাদের বৈধ মর্যাদা ধরে রাখতে পারতেন, যেমন পার্কিং টিকিট বা ডিইউআই।
২০২৫ সালে মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্যাম্পাসে ‘হামাসপন্থী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল করা হবে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন। পাশাপাশি ইউটাহে রক্ষণশীল পডকাস্টার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড উদযাপন করেছে বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের মর্যাদাও বাতিল করা হয়েছে।
এই নীতির কারণে অভিবাসন আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন। তাঁদের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে বহিষ্কারের আওতায় আনার পথ তৈরি করা হচ্ছে, যখন ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে এক কোটির বেশি অভিবাসী বহিষ্কারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি