এজেন্ট প্রত্যাহারের দাবির পর শহর কর্তৃপক্ষকে আইসিই পরিচালকের হুমকি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকারে ফিলাডেলফিয়ার শেরিফ রোশেল বিলালকে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক বার্তা দিয়েছেন।
ফক্স নিউজের দ্য বিগ উইকএন্ড শো-তে দেওয়া বক্তব্যে লায়ন্স বলেন, শেরিফের প্রতি আমার বার্তা—আমার লোকজনকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে দেখুন, তারপর কী হয় দেখা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আপনি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাকে ফেডারেল কর্মকর্তার মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারেন না। আমরা আইনসম্মত দায়িত্ব পালন করছি, আর এই ধরনের বক্তব্যই দেখায় প্রতিদিন আমরা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছি।
এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন শেরিফ রোশেল বিলাল ঘোষণা দিয়েছেন শহরে কোনো ফেডারেল কর্মকর্তা অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,তারা যদি এই শহরে এসে কোনো অপরাধ করে, তাহলে লুকিয়ে থাকার সুযোগ পাবে না। কেউ এসে তাদের তুলে নিয়ে যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ জেলা অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনারের নির্দেশ অনুযায়ী এমন আইসিই এজেন্টদের আটক করবে, যারা “অবৈধ কর্মকাণ্ড উসকে দেয়” বা জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে।
বিলাল আরও যোগ করেন,হোয়াইট হাউসের অপরাধী আপনাদের জেলে যাওয়া ঠেকাতে পারবে না,প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে।
এই উত্তেজনার পটভূমিতে রয়েছে মিনিয়াপলিসে আইসিই কর্মকর্তা জোনাথন রসের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নিহত হওয়ার ঘটনা (৭ জানুয়ারি)। এই ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়।
শেরিফ বিলাল ওই ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন,এটা হওয়া উচিত ছিল না। ট্রাম্প প্রশাসন ঘটনাটিকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও মিনেসোটার নেতারা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম গুডের আচরণকে “ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদ” বলে উল্লেখ করে বলেন, রস আত্মরক্ষায় গুলি করেছিলেন।
কিন্তু মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়াল্জ এই বক্তব্যকে “প্রোপাগান্ডা” বলে আখ্যা দেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
মিনিয়াপলিসের মেয়র জেকব ফ্রে বলেন,তারা এটাকে আত্মরক্ষার ঘটনা বানাতে চাইছে। ভিডিও আমি নিজে দেখেছি—এটা সম্পূর্ণ বাজে কথা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া বক্তব্যে পুলিশি বিশেষজ্ঞরা বলেন, রসের কিছু পদক্ষেপ বহু দশক ধরে অনুসৃত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীতিমালার পরিপন্থী।
শেরিফ বিলাল বলেন,কোনো পেশাদার পুলিশ চলন্ত গাড়ির দিকে গুলি চালায় না। কোনো পেশাদার কর্মকর্তা চলন্ত গাড়ির সামনে দাঁড়ায় না। আর কোনো আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা মুখ ঢেকে অভিযান চালায় না।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি