৪ মে ২০২৬

আলজাজিরার অনুসন্ধান

ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্রদের ওপর গোপন নজরদারি, তথ্য প্রকাশ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্রদের ওপর গোপন নজরদারি, তথ্য প্রকাশ

লন্ডনের রাস্তায় ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থী।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   যুক্তরাজ্যের প্রথম সারির ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নিজ দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর ‘নজরদারি’ চালানোর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। 

আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের এক যৌথ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত একটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংস্থাকে ভাড়া করে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গোপনে তদন্ত করিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘হোরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড’ নামক ওই গোয়েন্দা সংস্থাটিকে ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ৪০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৬ কোটি টাকা) পরিশোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এই সংস্থার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন হোয়াইটলি এবং কর্নেল টিম কলিন্স। 

অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সংস্থাটি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালিয়ে আসছিল। বিশেষ করে যারা গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে আন্দোলন বা বিক্ষোভের ডাক দিচ্ছিলেন, তাদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এই নজরদারির শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির একজন ফিলিস্তিনি অতিথি বক্তা এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের একজন পিএইচডি গবেষক। 

অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জুনে এলএসই-এর নিরাপত্তা দল হোরাসের কাছ থেকে নিয়মিত ‘ক্যাম্পাস আপডেট’ ক্রয় করত। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পোস্টগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি শিক্ষাবিদ রাবাব ইব্রাহিম আব্দুলহাদির ওপর একটি গোপন ‘সন্ত্রাসবাদ ঝুঁকি মূল্যায়ন’ বা থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট করার জন্য হোরাসকে দায়িত্ব দিয়েছিল ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। ওই শিক্ষাবিদ একে ‘দোষী সাব্যস্ত করার আগেই তদন্ত’ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই নজরদারির তালিকায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন-এর মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে তারা কেবল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আগে থেকে আঁচ করতে এই ধরণের সেবা নিয়েছে। তারা কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য পাচার বা বেআইনি কাজ করেনি বলে দাবি করেছে।

তবে মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত জিনা রোমেরো এই ঘটনাকে ‘গভীর আইনি উদ্বেগ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের তথ্যের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এমন নজরদারি তাদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে, যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ ও আন্দোলন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। 

যুক্তরাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ইউনিয়ন ‘ইউসিইউ’ এই ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে আখ্যায়িত করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল এভাবে নিজ শিক্ষার্থীদের পেছনে গোয়েন্দাগিরিতে ব্যয় করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি