৫ মে ২০২৬

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে ইরান

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে ইরান

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির সরকার। 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সুলতানিকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হতে পারে। 

গত সপ্তাহে কারাজ শহর থেকে বিক্ষোভ চলাকালে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ‘খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘মোহারেবেহ’র অভিযোগ আনা হয়েছে। সুলতানির পরিবারকে জানানো হয়েছে যে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে কোনো আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’এই পদক্ষেপকে আশির দশকে ইরানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর যে গণ-মৃত্যুদণ্ড বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘রেসপন্সিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ বা রক্ষার দায়িত্ব নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইরানের সাধারণ জনগণকে এই গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। 

ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান নামের অপর একটি সংগঠন এরফান সুলতানির জীবন বাঁচাতে বিশ্বজুড়ে সমর্থন চেয়ে বলছে, তার একমাত্র অপরাধ ছিল স্বাধীনতার ডাক দেওয়া।

এদিকে ইরানে চলমান এই অস্থিরতা এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নেবে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান সম্ভবত এর আগে কখনোই স্বাধীনতার এমন সম্ভাবনা দেখেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে বোমা হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। 

যদিও কূটনৈতিক সমাধানই প্রথম অগ্রাধিকার, তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগে ট্রাম্প পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট।

তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধের হুমকির সমালোচনা করেছেন খোদ মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্য। রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেছেন, অন্য কোনো দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করা মার্কিন সরকারের কাজ নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে ইরানে বোমা হামলা চালালে সাধারণ মানুষ হয়তো বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ থাকলেও বিদেশের আক্রমণ থেকে দেশকে বাঁচাতে আবারও বর্তমান সরকারের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। 

এছাড়া সাংবিধানিকভাবে কোনো দেশে হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো হামলা চালায় তবে তারা যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার হুমকিও দিয়ে রেখেছে তেহরান।

বিপি>টিডি
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি