টাফটসের সেই গবেষক
আইসিই'র হাতে গ্রেপ্তারের পর রুমেইসা ওজতুর্কের পিএইচডি অর্জন
টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুমেইসা ওজতুর্ক
ইমা এলিস: মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্টদের হাতে রাস্তায় আটক হওয়ার প্রায় এক বছর পর টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুমেইসা ওজতুর্ক এখন আনুষ্ঠানিকভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শিশু ও তরুণদের মিডিয়া ব্যবহারের ওপর গবেষণা করা ওজতুর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইল্ড স্টাডি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। বুধবার লিংকডইনে তিনি লিখেছেন, শিশু ও তরুণদের ইতিবাচক মিডিয়া ব্যবহার কীভাবে বিশ্বে সহমর্মিতা ও মানবিকতা বাড়াতে পারে তার গবেষণা সেই বিষয়েই কেন্দ্রীভূত।
তিনি আরও বলেন, গত এক বছরে 'অত্যন্ত নির্মম, বেআইনি ও অযৌক্তিক' অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেও তিনি এখনও একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক পৃথিবীর আশায় আছেন।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে হামাস-সমর্থনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
ওজতুর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র পত্রিকায় সহলেখক হিসেবে একটি মতামত নিবন্ধ লিখেছিলেন, যেখানে গাজা যুদ্ধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপেক্ষা করছে বলে সমালোচনা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন তার ছাত্র ভিসা বাতিল করে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
ম্যাসাচুসেটসের বাসার কাছে তাকে গ্রেপ্তারের পর লুইজিয়ানার একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় আটক রাখা হয়, যা তার একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব করে তোলে বলে তিনি আদালতে সাক্ষ্যে জানান।
গত মাসে একটি ইমিগ্রেশন আদালত তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া বাতিল করে, কারণ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাকে বহিষ্কারের আইনি ভিত্তি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে আপাতত তাকে দেশত্যাগের ঝুঁকি থেকে মুক্তি মিলেছে, যদিও গ্রেপ্তার ও আটক প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে তার আইনি লড়াই চলমান।
তার উপদেষ্টা অধ্যাপক সারা কে. জনসন তাকে শিশু বিকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওজতুর্ক বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাতপীড়িত শিশুদের কল্যাণে কাজ করা গবেষকদের সঙ্গে তিনি সংযোগ গড়ে তুলেছেন—গাজা, ইউক্রেন, সুদান থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত।
তিনি লেখেন, 'কঠিন সময়ের মধ্যেও এই অর্জনকে আমি নতুন সূচনা হিসেবে উদযাপন করছি, যাতে গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবা ও শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতাকে শিশু, তরুণ ও সম্প্রদায়ের জন্য অর্থবহ পরিবর্তনে রূপ দিতে পারি।'
শেষে তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে তাকে 'মিস ওজতুর্ক' নয়, 'ড. ওজতুর্ক' বলে সম্বোধন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি