যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকরী সীমাবদ্ধতার কারণে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকার বাতিল
নোমান সাবিত: মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) সাময়িকভাবে ভারতীয় আবেদনকারীদের একাধিক এইচ-১বি ভিসা সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে। কয়েকজন অভিবাসন আইনজীবীর মতে, কর্মক্ষম সীমাবদ্ধতা এবং আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের নতুন নিয়ম চালুর ফলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চেন্নাই ও হায়দরাবাদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট প্রভাবিত আবেদনকারীদের নোটিশ পাঠিয়ে জানায়, নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে উপস্থিত না হতে।
এক ইমেইলে কনস্যুলেট লিখেছে, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ-সংক্রান্ত কার্যক্রমগত সীমাবদ্ধতা এবং নিশ্চিত করতে যে ভিসাপ্রাপ্ত কেউই মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি না হন এই কারণে চেন্নাই কনস্যুলেটকে দৈনিক সাক্ষাৎকারের সংখ্যা কমাতে হচ্ছে।
এই স্থগিতাদেশ এসেছে এমন সময়ে, যখন এইচ-১বি আবেদনকারী ও তাঁদের নির্ভরশীলদের জন্য নতুন সোশ্যাল মিডিয়া ভেটিং বা অনলাইন উপস্থিতি যাচাই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগে থেকেই চালু ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলামেলা রাখার শর্ত ও কঠোর যাচাইয়ের ফলে প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে, যা আবেদনকারী ও নিয়োগদাতা উভয়ের জন্য বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।
অভিবাসন আইনজীবী এলেন ফ্রিম্যান লিংকডইনে লিখেছেন, হায়দরাবাদ কনস্যুলেট ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ এর পরবর্তী বহু সাক্ষাৎকার নতুন তারিখে সরিয়ে দিচ্ছে।
তিনি এক আবেদনকারীর উদাহরণ দেন বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁকে জানানো হয়, ১৫ ডিসেম্বরের সাক্ষাৎকার মার্চ ১০, ২০২৬-এ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে দেখানো হয় অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা ও দৈনিক সাক্ষাৎকার ক্ষমতা কমে যাওয়া।
ফ্রিম্যান বলেন, চেন্নাই ও হায়দরাবাদ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত। সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল হয়নি—সম্ভবত যেগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া ভেটিং হয়নি বা কিছু পাওয়া গেছে, সেগুলোই স্থগিত।
ভারতে অবস্থিত মার্কিন মিশন জানায়, যাঁরা অফিসিয়াল ইমেইলে নতুন তারিখ পেয়েছেন, তাঁদের কেবল নতুন তারিখেই উপস্থিত হতে হবে। পুরোনো তারিখে গেলে ভিসা সেন্টারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
মার্কিন ব্যবসায়িক অভিবাসন আইনজীবী জেমস হলিস জানান, এ পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে, যখন মাসখানেক আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা হয়।
তিনি বলেন,শোনা যাচ্ছে ১৫-১৮ ডিসেম্বরের বেশিরভাগ এইচ-১বি সাক্ষাৎকার বাতিল হয়েছে। অনেকে বলছে ওই সময়ে সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল, যদিও তা হলে আমি বিস্মিত হব।
এইচ-১বি ভিসা কী?
এটি এক ধরনের অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসা, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসাসহ উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারে।
রিপাবলিকান দলে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করেন, এইচ-১বি প্রোগ্রাম আমেরিকান শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি আছে। অপরপক্ষে অনেকে মনে করেন, প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত খাতে শ্রমশূন্যতা পূরণে এই ভিসা অত্যাবশ্যক, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
দুই দলই স্বীকার করে, আইনগত ফাঁকফোকরে কখনও বিদেশি শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যা চাকরি আউটসোর্সিং ও মজুরি চাপ কমার কারণ হতে পারে—বিশেষ করে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে ছাঁটাই চললেও এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ অব্যাহত থাকায় সমালোচনা বাড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আবেদনপত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা কিভাবে কার্যকর করা হবে তা নিয়ে আইনজীবী ও আবেদনকারীদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে ২০২৫ অর্থবছরে এইচ-১বি অনুমোদনে শীর্ষ ২৫ নিয়োগদাতার তালিকায় ভারতীয় কোম্পানি মাত্র তিনটি রয়েছে।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি