যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে আইসিইর হাতে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ
আইসিই গত জুলাই মাসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে
নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ( আইসিই) গত জুলাই মাসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তার। নতুন প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি থেকে বোঝা যাচ্ছে, চলতি বছরের শুরুতে অভিযান পরিচালনার কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এলেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ব্যাপক বহিষ্কার বা গণ-ডিপোর্টেশন কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে ব্যাপক প্রচার পাওয়া অভিযানগুলো জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে তুলনামূলক কম প্রচার পাওয়া অভিযান ও গ্রেপ্তারের দিকে ঝুঁকলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে আইসিই মোট ৪৯,৫৭১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জুনে এই সংখ্যা ছিল ৪৩,০২১। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে গ্রেপ্তার বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।
অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার হয়েছিল ২৯,২৪১ জন। সেই তুলনায় জুলাইয়ের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আইন প্রয়োগ অভিযান জোরদারের পর ফেব্রুয়ারিতে ওই গ্রেপ্তারের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছিল।
আইসিই এই সরকারি তথ্য ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে এবং ইউসিএলএ-ভিত্তিক নির্বাসন সংক্রান্ত তথ্য প্রকল্প-কে সরবরাহ করেছে। পরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গ্রেপ্তার বৃদ্ধির পাশাপাশি আইসিই বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। সংস্থাটি ট্রাফিক স্টপ থেকেও অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করছে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আইসিইর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে।
এছাড়া, যেসব হাইতিয়ান নাগরিকের বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাদেরও আইসিই কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার করতে শুরু করেছেন।
অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে কাজ করা সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ-এর মার্ক ক্রিকোরিয়ান নতুন পরিসংখ্যান সম্পর্কে বলেন, প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম “বন্ধ করেনি।”
অভিবাসন অভিযানে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা বাড়ছে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগের মাসে অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ৮ হাজারের কিছু বেশি। তখন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন শহর বা অঙ্গরাজ্যের জেল ও কারাগার থেকে আইসিইর কাছে হস্তান্তর করা অভিবাসী, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর প্রথম বছরে এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। প্রশাসন কোথায় এবং কাদের আইসিই গ্রেপ্তার করতে পারবে—সে বিষয়ে আগের বিধিনিষেধ শিথিল করে। একই সঙ্গে সংস্থাটির জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর নাগাদ আইসিইর মাসিক গ্রেপ্তার বেড়ে ৪০,১৭৭-এর বেশি হয়। ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্ট (এফওআইএ) সংক্রান্ত একটি মামলার মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের শুরু থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ অনেকাংশে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে নির্বাসন সংক্রান্ত তথ্য প্রকল্প-এর সংগৃহীত তথ্য আইসিইর বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।
জানুয়ারিতে মিনেসোটায় দুটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার পর ব্যাপক বিক্ষোভ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমে যায়। কয়েক মাস প্রায় স্থিতিশীল থাকার পর জুনে গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং জুলাইয়ে তা আবারও বেড়ে যায়।
জুলাইয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ গ্রেপ্তার করেছে সহযোগী স্থানীয় সংস্থা
আইসিইর সঙ্গে অংশীদারত্বে থাকা অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ বিভাগের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের সংখ্যাও গত এক বছরে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে আইসিই এসব অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশীদার সংস্থাগুলো ৬,৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যা ওই মাসে আইসিইর মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ১৩ শতাংশ। এক বছর আগে এ ধরনের অংশীদার সংস্থার মাধ্যমে গ্রেপ্তার আইসিইর মাসিক মোট গ্রেপ্তারের ৫ শতাংশেরও কম ছিল।
জুলাইয়ে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০ হাজার গ্রেপ্তার হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-বহিষ্কার কর্মসূচিতে অঙ্গরাজ্য দুটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরছে।
টেক্সাস ও ফ্লোরিডা আইসিইর সঙ্গে 287(g) চুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। এসব চুক্তির আওতায় অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ দেখা গেছে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্টে। Half Shell Raw Bar-এর ব্যবস্থাপক জানান, তার প্রতিষ্ঠানের একজন ৩৬ বছর বয়সী কর্মীকে স্থানীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করে পরে আইসিইর কাছে হস্তান্তর করেছে। ওই ব্যক্তি একজন আশ্রয়প্রার্থী, যিনি প্রাণনাশের হুমকির পর ২০১৭ সালে হাইতি থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপক ববি কুচিনস্কি জানান, ওই ব্যক্তি সেখানে বাবুর্চি ও সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কুচিনস্কি ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুচিনস্কি বলেন, “তিনি একজন চমৎকার কর্মী ছিলেন। খুব দ্রুত কাজ শিখেছিলেন এবং কখনো আইনের সঙ্গে কোনো সমস্যায় জড়াননি।” তিনি আরও বলেন, ওই কর্মীর বিকল্প খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে।
তার ভাষায়, “তিনি খুব ভালো একজন মানুষ ছিলেন এবং পরিবারকেন্দ্রিক ছিলেন।”
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
ইরান সফরের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা পাকিস্তান সেনাপ্রধানের
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব: এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি
সঙ্গীত একাডেমি