ককরোচদের আন্দোলন
বিক্ষোভকারীদের তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ দিল্লি পুলিশের
ফাইল ছবি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে আরও আগাম তথ্য সংগ্রহে জোর দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার আগেই আয়োজক ও সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিজেদের হাতে রাখতে চায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন এই বাহিনী।
এ জন্য বিক্ষোভকারীদের নাম পরিচয় থেকে শুরু করে তাদের বাড়ি কোন রাজ্যে, কারা তাদের সংগঠিত করছেন, কোথায় থাকছেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এসব তথ্য নিয়ে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বিশেষ শাখাকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীতে কোনো ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।এতদিন সাধারণত কোনো বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান এবং সেখানে কত মানুষ আসতে পারেন, সেই হিসাব পুলিশের কাছে থাকত।
এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক পরিচয়। বিক্ষোভের মূল বিষয় কী, কারা এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং কোন সংগঠন এর পেছনে রয়েছে, সে বিষয়েও আগাম তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
শুধু বিক্ষোভস্থল নয়, আন্দোলনকারীরা দিল্লির কোথায় অবস্থান করছেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, কোথা থেকে রাজধানীতে আসছেন, এসব বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।এই উদ্যোগের পেছনে সাম্প্রতিক একটি বড় বিক্ষোভের অভিজ্ঞতাকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর থেকে মিছিল করে সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি পেলেট গান বা ছররা ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও অব্যাহত। দিল্লি পুলিশের ধারণা, ওই কর্মসূচিতে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ জড়ো হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আগাম গোয়েন্দা তথ্য আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বিক্ষোভকারীদের পরিচয় ও যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।তবে পুলিশের এই উদ্যোগকে ঘিরে নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে কতটা তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সেই তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে, তা নিয়েও তৈরি হতে পারে বিতর্ক।
রাজধানীতে বড় কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে এখন থেকে শুধু কত মানুষ আসবেন, তা নয়, কারা আসবেন এবং তাদের সংগঠিত করছেন কারা, সেই তথ্যও পুলিশের নজরে থাকবে।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
ইরান সফরের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা পাকিস্তান সেনাপ্রধানের
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব: এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি
যুক্তরাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, গ্রেপ্তার ১২
সঙ্গীত একাডেমি