যুক্তরাষ্ট্রে ৪০টি বড় বিমানবন্দরে কর্মী সংকটে চরম ভোগান্তিতে বিমানযাত্রীরা
নোমান সাবিত: সরকারি অচলাবস্থার মধ্যে বিমানবন্দরে তীব্র কর্মী সংকট দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) নতুন ফ্লাইট কমানোর নির্দেশ দেওয়ার পর বিমানযাত্রীদের এখন বিলম্ব ও বাতিল ফ্লাইটের জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এফএএ-এর নির্দেশে সব বাণিজ্যিক এয়ারলাইনকে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট সংখ্যা প্রথমে ৪ শতাংশ কমাতে এবং মাসের শেষে তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে বলা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো যেসব বিমান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন ছাড়াই সপ্তাহে ছয় দিন বাধ্যতামূলক ওভারটাইমে কাজ করছেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো।

মিশিগানের ফ্ল্যাট রকের বাসিন্দা ও ঘন ঘন ব্যবসায়িক সফরকারী কেলি ম্যাথিউস বলেন, তিনি সামনের বেশিরভাগ সফর বাতিল করেছেন। আপনি কাউকে বেতন না দিয়ে প্রতিদিন কাজে আসার আশা করতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, এটা এমন নয় যে তারা কাজ করতে চায় না—কিন্তু গাড়ির গ্যাস, শিশুসেবা আর অন্য খরচ সামলানোই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এফএএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি বড় বিমানবন্দর এ পদক্ষেপের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্কের লাগার্ডিয়া, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো ইন্টারন্যাশনাল, শিকাগোর মিডওয়ে, লাস ভেগাসের হ্যারি রিড, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এবং ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বিমানবন্দরগুলো।
শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা প্রস্থান করা ফ্লাইটের মধ্যে ৭৫১টি বিলম্বিত এবং ৮২২টি বাতিল হয়েছে বলে ফ্লাইটঅওয়্যার-এর তথ্য জানায়। বৃহস্পতিবারই বিলম্ব হয়েছিল ৭,০৭৭টি ফ্লাইটের, আর বাতিল হয়েছিল ৬৬২টি, যদিও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিঘ্ন না ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এয়ারলাইনগুলো।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমরা গ্রাহকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বিঘ্নিত করতে চাই না, তাই ভ্রমণমুক্তি ঘোষণা করেছি। এই সময়ে যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বা যারা ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা কোনো জরিমানা ছাড়াই ফ্লাইট পরিবর্তন বা ফেরত পেতে পারবেন।
এয়ারলাইনটি আরও যোগ করেছে, যেসব ফেডারেল বিমান চলাচল কর্মী বেতন ছাড়াই আকাশপথের নিরাপত্তা বজায় রাখছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই পরিস্থিতি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা আবারও ওয়াশিংটনের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—অচলাবস্থা অবিলম্বে সমাধান করুন।
অন্যান্য এয়ারলাইন ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোও সিনেটের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা সমঝোতায় পৌঁছে সরকার পুনরায় চালু করে।
হার্টজ সিইও গিল ওয়েস্ট এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা কংগ্রেসকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা দ্রুত বাজেট বিল পাস করে যাত্রীদের জন্য স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনে। প্রতিটি বিলম্বই নতুন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
গাড়ি ভাড়ার এই সংস্থা জানিয়েছে, একমুখী গাড়ি বুকিং ২০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, বিমান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে।
মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে কাজ করা এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এনপিআর-কে বলেন, আমার মনে হয় আমরা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সীমায় এসে পৌঁছেছি,গতবারের মতো এবারও মানুষ বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে।
পরিবহন মন্ত্রী শন ডাফি সতর্ক করেছেন, কর্মীদের মনোবল ও জনবল সংকটের কারণে আগামী সপ্তাহে কিছু বিমান চলাচল সীমিত করতে হতে পারে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, যদি সরকারি অচলাবস্থা অব্যাহত থাকে, তবে থ্যাঙ্কসগিভিং সপ্তাহে যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি হতে পারে 'খুবই কঠিন।'
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি