৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কাছাকাছি গিয়েও কোন ভুলে আটকে গেল পাল্টা শুল্ক চুক্তি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কাছাকাছি গিয়েও কোন ভুলে আটকে গেল পাল্টা শুল্ক চুক্তি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  পাঁচ দফা আলোচনা শেষে ভারতের কর্মকর্তারা এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি হবে বলেই ধরে নিয়েছিলেন। এমনকি মিডিয়াকে ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সীমিত থাকবে। ভারতের আশা ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ আগস্টের ডেডলাইনের আগেই নিজেই এই চুক্তি ঘোষণা করবেন। কিন্তু সে ঘোষণা আর এলো না। বরং এর বিপরীতে, হঠাৎ করেই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে অজানা কিছু শাস্তিমূলক পদক্ষেপও কার্যকর করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্কহার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে, যা যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত সর্বোচ্চ হারের মধ্যে একটি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বড় চুক্তি করে ফেলেছে জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকেও আরো ভালো শর্ত দিয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মোট ছয়জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ বিষয়ে প্রযুক্তিগত সমঝোতা হয়েছিল।কিন্তু রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত, ভুল বোঝাবুঝি এবং তিক্ততা এই চুক্তি ভেঙে দেয়। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, মার্কিন হোয়াইট হাউস কিংবা ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস — কেউই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেনি। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর সফরের পর ভারত ভেবেছিল, চূড়ান্ত চুক্তির জন্য তারা যথেষ্ট ছাড় দিয়েছে। ভারতের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে শিল্পজাত পণ্য আসে, তার প্রায় ৪০ শতাংশের ওপর শুল্ক শূন্য করার প্রস্তাব দেয় ভারত।এ ছাড়া ধাপে ধাপে গাড়ি ও মদ আমদানির ওপর শুল্ক কমাতে সম্মত হয়, কোটার শর্তে। ভারত আরো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—মার্কিন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা পণ্য আমদানি বাড়াবে। তবে কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত আমদানির মার্কিন দাবি মেনে নিতে ভারত দ্বিধায় ছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যদিও অনেক অগ্রগতি হয়েছিল, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ একটি চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি।’ আত্মবিশ্বাসে ভর করে ভুল সিদ্ধান্ত? মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে একটি চুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করেন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।ভারত ২৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মার্কিন জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতিও দেয়। কিন্তু পরে ভারতের কর্মকর্তারা মনে করতে থাকেন যে, ট্রাম্পের ‘বড় চুক্তির’ মন্তব্যই হলো সবুজ সংকেত। ফলে তারা কৃষি ও দুগ্ধ খাতে ছাড় না দেওয়ার মনোভাব পোষণ করেন। ভারতের একজন আলোচক তখন বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি, ১.৪ বিলিয়ন মানুষের বাজারকে যুক্তরাষ্ট্র উপেক্ষা করতে পারবে না।’ এমনকি এপ্রিলের ১০ তাংশ গড় মার্কিন শুল্ক থেকে রেহাই ও স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ইত্যাদির শুল্ক প্রত্যাহারেরও চেষ্টা করেছিল ভারত। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্র যখন জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করে, ভারত নিজেও ১৫ শতাংশ শুল্কের আশায় ছাড় কম দিতে চায়।ওয়াশিংটনের এক সূত্র জানায়, ‘ট্রাম্প চেয়েছিলেন এমন এক ঘোষণা যা আন্তর্জাতিক শিরোনাম হবে— যেখানে থাকবে মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার, বড় বিনিয়োগ ও বিপুল পরিমাণ কেনাকাটা।’ ভারতের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ‘আমরা যা অফার করেছিলাম, তা দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্যদের মতো ছিল না।’ দক্ষিণ কোরিয়া ১৫ শতাংশ শুল্কে সম্মত হতে ট্রাম্পের সময়সীমার এক দিন আগেই ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, জ্বালানি আমদানি বাড়ানো ও চাল ও গরুর মাংসে ছাড় দেয়। যোগাযোগের ভাঙন ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা মার্ক লিনস্কট (তিনি আগে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন ) দুই দেশের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি গ্রুপে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে দুই দেশ খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির সরাসরি যোগাযোগের অভাব থেকেই চুক্তি হয়নি।’ হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করেছে, অন্যান্য চুক্তি এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াও হয়েছে। ভারতের এক কর্মকর্তা বলেন, মোদি এমন ফোনকল করতে চাননি যেখানে ট্রাম্প একতরফা চাপ দিতে পারেন। তিনজন ভারতীয় কর্মকর্তা আরো বলেন, পাকিস্তান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বারবার মন্তব্য ভারতকে চাপে ফেলে দেয় এবং মোদি আর যোগাযোগ করেননি। এক কর্মকর্তা জানান, ‘ট্রাম্পের পাকিস্তান মন্তব্য ভারতের পছন্দ হয়নি।’ আরেক সিনিয়র ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কূটনৈতিক সমর্থনের অভাব ছিল। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যখন সফল চুক্তি করল, তখন আমাদের প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ ছিল দুর্বল।’ সামনে কী? চলমান সংকটের মাঝেও আলোচনার দরজা এখনো খোলা। এই মাসেই একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল দিল্লি সফরে আসছে। ভারতের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কৃষি ও দুগ্ধ খাতে কিছু কিছু ছাড় দিয়ে চুক্তি আবার চালু করা সম্ভব। রাশিয়া থেকে তেল কেনার হারও কিছুটা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির দিক ঝোঁকার কথা ভাবছে ভারত — যদি দাম মেলে। লিনস্কট বলেন, ‘সম্ভবত এটি এখন প্রধানমন্ত্রীর ও প্রেসিডেন্টের সরাসরি ফোনালাপেই নির্ভর করছে। ফোনটা তুলতে হবে। এখন দুই দেশই হারছে। কিন্তু এখনো এটি এক জয়-জয় পরিস্থিতিতে রূপ নিতে পারে।’ [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি>টিডি
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি