ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম: যুক্তরাষ্ট্রে আসার চিন্তা বাদ দেবে বিদেশিরা

নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কিছু নির্দিষ্ট দেশের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) দেওয়ার নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ১২ মাস মেয়াদি একটি 'ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম'-এর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে, যা কনস্যুলার অফিসারদের নির্দিষ্ট ভিসা আবেদনকারীদের কাছ থেকে বন্ড নেওয়ার অনুমতি দেবে। এই প্রোগ্রামের আওতায় বন্ড প্রদান বাধ্যতামূলক করা হতে পারে সেইসব দেশের নাগরিকদের জন্য, যেসব দেশের ভিসা-উত্তীর্ণদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার হার বেশি অথবা যেসব দেশের স্ক্রিনিং ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দুর্বল বলে বিবেচিত হয়।
যদিও বিজ্ঞপ্তিতে কোন দেশগুলো এই প্রোগ্রামের আওতায় আসবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে বলা হয়েছে, প্রোগ্রাম কার্যকর হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করবে এবং কেন বন্ড প্রয়োজন তার ব্যাখ্যা দেবে। বিজ্ঞপ্তিটি মঙ্গলবার ফেডারেল রেজিস্টার-এ প্রকাশিত হবে। এই পাইলট প্রোগ্রাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিন পর থেকে কার্যকর হবে এবং আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
এই উদ্যোগটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ। আদেশে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীকে ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতিপূর্বে অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি হ্রাস, একাধিক দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং শিক্ষার্থী ভিসার নিয়ম কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি নতুন ট্যাক্স ও ব্যয় বিল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অনেক ভ্রমণকারীকে এখন ২৫০ ডলারের 'ভিসা ইন্টেগ্রিটি ফি' দিতে হবে।
কাটো ইনস্টিটিউটের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স নোউরাস্তেহ বলেছেন, এই নতুন উদ্যোগ বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করবে।
তিনি সিবিএস নিউজ-কে বলেন, 'ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসায় বন্ড চাপিয়ে দিলে অধিকাংশ বিদেশিই যুক্তরাষ্ট্রে আসার চিন্তা বাদ দেবে। এর ফলে আমাদের পর্যটন খাত বিপর্যস্ত হবে। পর্যটকরা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেন, যা রপ্তানির অংশ হিসেবে ধরা হয়। এই প্রস্তাব শুধুই পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করবে না, বরং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রশাসনিক লক্ষ্যেরও বিরোধিতা করবে।'
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই পাইলট প্রোগ্রামকে 'কূটনৈতিক উপকরণ' হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, এটি ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকারগুলোর আলোকে ভিসা বন্ড ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, 'এই প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারগুলোকে তাদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করা, সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট কর্মসূচিগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অভ্যাগতরা যেন যথাসময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে তা নিশ্চিত করা।'
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। সিএসআপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি