৪ মে ২০২৬

ভারতে আসার কথা থাকলেও মাঝপথেই গতিপথ পরিবর্তন ইরানি তেলবাহী জাহাজের

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ বিকাল
ভারতে আসার কথা থাকলেও মাঝপথেই গতিপথ পরিবর্তন ইরানি তেলবাহী জাহাজের

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে ভারতে তেলের প্রথম চালান আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন করেছে তেলবাহী একটি জাহাজ।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা থেকে জানা গেছে, প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘পিং শুন’ নামক জাহাজটি গুজরাটের ভাদিনার বন্দরের খুব কাছে চলে এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এটি ভারতের পরিবর্তে চীনের শানডং প্রদেশের ডংইং বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করে।

এসোয়াতিনি পতাকাবাহী এই জাহাজটি বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত গুজরাট অভিমুখী ছিল, কিন্তু মাঝপথেই এটি দক্ষিণ দিকে মোড় নেয়।

পণ্য বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতাকে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিক্রেতা পক্ষ অর্থাৎ ইরান তাদের আগের ৩০-৬০ দিনের ক্রেডিট সুবিধা কমিয়ে এখন অগ্রিম বা দ্রুত পেমেন্টের দাবি জানাচ্ছে। ইরান বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থা ‘সুইফট’ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য অর্থ পরিশোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখনো ইরানি আর্থিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হতে দ্বিধাবোধ করছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের জন্য ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছিল। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নেয়। এই শিথিলের ফলে পিং শুন জাহাজে থাকা তেলটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত ছিল, কারণ এটি ২০ মার্চের আগেই লোড করা হয়েছিল।

২০১৯ সালের মে মাস থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ রেখেছিল। এই চালানটি পৌঁছালে তা হতো দীর্ঘ বিরতির পর ভারতের জন্য প্রথম ইরানি তেলের সরবরাহ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হলে জাহাজটি পুনরায় ভারতের কোনো শোধনাগারের দিকে ফিরে আসার সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণভাবে টিকে আছে। তবে এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে চীনের বাইরে অন্য দেশগুলোর জন্য ইরানের সাথে তেল বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে কেবল লজিস্টিক বা পরিবহন সুবিধা থাকলেই চলে না, বরং বাণিজ্যিক শর্ত এবং আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকিগুলোই এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে চীনই ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি